ঢাকা: দেশটায় এখন চলে ধর্ষণের সংস্কৃতি। কিন্তু কোনো ছবি চলে না, নাটক চলে না, গান বাজনা চলে না। ভালো জিনিস চলে না। ধর্ষণের কথা চলে, ধর্ষণের গীত চলে, ধর্ষণ চলে!
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।
চার্জ গঠন শুনানির জন্য আজ সোমবার (১ জুন) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয় তাদের।
সকাল ১১টার পর দুইজনকেই ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলা হয়।
এ সময় আসামি সোহেল রানা আবার নতুন গল্প জোগাড় করেন। ধর্ষক বলেন, হত্যা করেছে নাকি অন্যজন। তিনি শুধু ধর্ষণ করেছেন। যে মেরেছে তার নাম নাকি ডলার! কোন ডলার? কোথাকার ডলার? তার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে সোহেল বলেন, ‘আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি ধর্ষণ করছি, খুন করছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে। সোহেল রানা এ সময় তার ডিএনএ টেস্ট না নিয়ে অটোমেটিক লেখা হয়েছে বলেন।
নতুন নাম আসা ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর বাড়ির অনেক টাকাওয়ালা।
এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বদলি করা হয় এবং আদালত আজ চার্জ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।
