ঢাকা: লেখক তসলিমা নাসরিন যেমন নারীবাদী কথা বলেন, লেখেন, তেমনি প্রেম – বিচ্ছেদ নিয়েও প্রায়ই বলেন। যদিও এবারের বলাটা একটু অন্যরকম।

যা নিয়ে অনেকের অনেক মতবিরোধ আছে। অনেকে পরকীয়ার বিপক্ষে, অনেকে পক্ষে।

কমেন্টে একজন লিখেছেন, ‘সঙ্গী বা সঙ্গিনী থাকা সত্ত্বেও যারা এসব করে তাঁদেরকে কী বলবেন? রুদ্র নিজেও এসবে আসক্ত ছিলো।নয় কি? আপনি মেনে নিতে পেরেছিলেন?একটু হলেও কি অপমানবোধ হয়নি আপনার? প্রেম হতেই পারে।তাই বলে দু নৌকায় পা দিয়ে নিশ্চয়ই না”!

অর্থাৎ পরকীয়ার বিরোধিতাই তিনি করেছেন।

তসলিমা নাসরিন ফেসবুকে যা লিখেছেন:

“ফেসবুকে দেখছি পরকীয়ার বিরুদ্ধে মানুষ ভীষণ ক্ষিপ্ত। পরনির্ভর, পরাশ্রয়ী, আত্মবিশ্বাসহীন লোকেরা এ নিয়ে হল্লা করে। আমার কাছে এ কোনও দোষের কাজ নয়।

প্রেম প্রেমই, প্রেমের কোনও আপনকিয়া, পরকিয়া হয় না। সঙ্গী বা সঙ্গিনী না থাকলে কারও সঙ্গে প্রেম তো হতেই পারে, থাকলেও হতে পারে। কাকে ভাল লাগবে, কার জন্য কে কবে উতলা হবে, তা তো আগে থেকে বলা যায় না।

তবে অনেস্টি হলো, সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে জানিয়ে দেওয়া, যে, তার অন্য কাউকে ভাল লেগেছে, কাউকে ভালবাসছে সে, সেই কাউকে নিয়েই সে বাস করতে চায়। তখন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হবে, আর যার জন্য মনে ঝড় তুফান, তাকে নিয়ে বসবাস শুরু হবে”।

এই বিষয়টি যথেষ্ট বিতর্কিত। কারণ একজনের সাথে সংসার, আরেকজনের সাথে প্রেম এইসব বিষয় অন্তত এই দেশে কারো কাছেই কাম্য নয়। আবার অনেকে বলেন ‘এটা ব্যক্তি অধিকার ‘!

যাই হোক , তসলিমা আরো লেখেন, “মানুষ তো পেঙ্গুইন পাখি নয় যে সারাজীবন একজনকেই মন দেবে, একজনের সঙ্গেই ঘর সংসার করবে!

পুরুষের বহুবিবাহটা যাচ্ছেতাই ব্যাপার, খুব অশ্লীলও। এই নোংরা সিস্টেমটা বন্ধ হওয়া উচিত। অবশ্য সমাজ যদি নোংরা হয়, তাহলে নোংরা সিস্টেমকে কিছুতেই গুডবাই বলতে চায় না”।

“অসভ্য সমাজ বিচ্ছেদের বিরুদ্ধে। কিন্তু বিচ্ছেদ স্বাস্থ্যসম্মত। বিশেষ করে টক্সিক এনভায়রমেন্টের চেয়ে। ভালবাসাবিহীন একত্রবাস দুঃসহ। শুধু সন্তান আছে সে কারণে, শুধু পাছে লোকে কিছু বলে’ সে কারণে বিচ্ছেদ না হওয়াটা ভয়ংকর। নাহ, সন্তানের জন্য কান্নাকাটি করার দরকার নেই। টক্সিক এনভায়রমেন্টে সন্তানের অমানুষ হওয়ার চান্স বেশি থাকে”।

“আর যদি এমন ওপেন রিলেসানশিপে দুজন সম্মত হয়, সংসারটা না ভাঙ্গুক, যে যার মতো বাইরে প্রেম করে বেড়াক, শুয়ে বেড়াক, তাহলে ঠিক আছে।

আসলে কে চায় সঙ্গী বা সঙ্গিনী অন্য কারও সঙ্গে প্রেম করছে, অন্য কারও সঙ্গে শুচ্ছে, তবু নানা ছুতোনাতায় তার সংসারের মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে, আর হাউমাউ করে বিলাপ পাড়তে দিন রাত?

যারা পরনির্ভর, পরাশ্রয়ী, আর আত্মবিশ্বাসহীন দ্বিপদী জীব, তারা। এই জীবের সংখ্যা যত কম, ততই সমাজের মঙ্গল”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *