ঢাকা: শুধু ‘গাছ লাগাও প্রাণ বাঁচাও’ এই কথায় কেউ আজকাল গাছ লাগায় না, প্রাণ তো বাঁচাবে দূরের কথা, উল্টো প্রাণ একটু থাকলে সেটাও কেড়ে নেয়!

আইন আছে আইনের কঠোর প্রয়োগ যদি না থাকে, আর সরকার খোদ যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত, লোভী হয় সেখানে হাজার চেষ্টা করলেও না গাছ, পরিবেশ বাঁচাতে পারবেন, আর না সংস্কৃতি বাঁচাতে পারবেন।

গাছের যেন আগা গোড়া কেটে ফেলা হচ্ছে, তেমনি সংস্কৃতিকেও!

আজ, ৫ জুন- বিশ্ব পরিবেশ দিবস।গাছপালা, নদীনালা আর খোলা আকাশের নিচে বিস্তৃত প্রকৃতিকে এই দেশের অনেকেই ভালোবাসে। তবে সম্মিলিত ভালোবাসা লাগবে প্রকৃতি বাঁচাতে। আর লাগবে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ, শাস্তি। এইসব যদি না থাকে- তাহলে মানুষের আবেগ দিয়েও কোনো কাজ হয় না।

‘কানাডার বিজ্ঞানী হুভার্ড রিভস বলেছেন, ‘”মানুষ এক অপ্রকৃতিস্থ প্রাণী। সে অদৃশ্য ঈশ্বরকে পূজা করে আর দৃশ্যমান প্রকৃতিকে ধ্বংস করে;সে জানে না যে প্রকৃতিকে সে ধ্বংস করে চলেছে সেখানেই ঈশ্বরের অবস্থান।”

এখানে আবার প্রকৃতি পুজোর কথা বলায় হয়তো মোল্লারা ক্ষেপে উঠবে।

বাংলাদেশ কোন অবস্থায় গিয়েছে, কীভাবে প্রকৃতি ধ্বংস করছে তার একটু নমুনা দেই।

দেশে গত এক বছরে সরকারি প্রকল্প ও দখলের জন্য কাটা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৫টি গাছ। হয়তো সংখ্যাটা আরো বেশিও হতে পারে।

গবেষণা সংস্থা রিভার অ্যান্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি) প্রকাশিত ‘লগিং অব ট্রিস ইন বাংলাদেশ (২০২৫-২৬)’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৫ সালের মে থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা করা হয়।

কাটা হয়েছে যে গাছগুলো সেই গাছের বেশিরভাগই সরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক ও উন্মুক্ত জমির।

গবেষণাপত্রটির তথ্য এবং সংবাদের উদাহরণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গাছ কাটার বড় ঘটনাগুলো ঘটেছে মূলত রাস্তার পাশে, বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে, খাল বা নদীর পাড়ে এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে।

এবং জানলে ভিতরটা মোচড় দেবে, গত এক বছরে গড়ে প্রতি মাসে ৪ হাজার ৩৬৫টি গাছ কাটা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গাছ কাটা হয়েছে রাজশাহী জেলায়– সংখ্যাটা ২৩ হাজার ৪১টি।

গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে গাছ কাটার মহোৎসব হয়। এক বছরে সারা দেশে কাটা হয় প্রায় ১১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬৫টি গাছ।

এরপরের বছর (২০২৪-২৫ অর্থবছর) প্রায় ১০ লাখ কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮১ হাজার ৮১৮টিতে। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাটা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৫টি গাছ।

মানুষ পৃথিবীর মালিক নয়, অথচ বাংলাদেশের মানুষ তো নিজেদের পৃথিবীর মালিক ভেবে বসে আছে! তাই যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছে।

আমার তো মনে হয় এখন, মানবসভ্যতাকে পুরো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে একা এরাই। এতটা ছন্নছাড়া স্বভাবের হয়েছে এখন বাংলাদেশিরা।

কেয়ামত বেশি দূরে নয়। এরাই কেয়ামত আনবে।

এইযে দেশের কোথাও ভয়াবহ খরা, কোথাও অস্বাভাবিক বন্যা, কোথাও দাবানল, আবার কোথাও ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এগুলোর কারণ কী? প্রকৃতি ধ্বংস তো?

বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এখানে আরও প্রকটভাবে দেখা যাচ্ছে।

পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা, অতিবৃষ্টি, নদী ভাঙন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি— সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন এক নীরব সতর্কবার্তা দিচ্ছে।

দেখেন তাকিয়ে, চট্টগ্রাম একসময় ছিল সবুজ পাহাড়, নদী আর বৃক্ষের শহর। কিন্তু আজ অপরিকল্পিত নগরায়ন, পাহাড় কাটা, খাল ভরাট এবং নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের কারণে এই শহরের পরিবেশগত ভারসাম্য ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মুসলমানরা যার নামে কারো গলা নামিয়ে দিতে চিন্তা করে না, সেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) খোদ পরিবেশ সংরক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বৃক্ষরোপণকে সদকা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এমনকি কেয়ামত উপস্থিত হলেও হাতে যদি একটি চারা থাকে, সেটি রোপণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মানবেন তো?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *