ঢাকা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কথা বলেছেন, তা দেশদ্রোহিতার সামিল। এইরকম কথাবার্তা একজন নেত্রীর কাছে থেকে আশা কেউ করেনি। অথচ আচমকা এমন মিথ্যা, বার্তা তিনি দিলেন যা এখন প্রচণ্ড শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
বিষয়টাকে ভারতের স্বরাষ্ট্রদপ্তর মোটেই ভালো চোখে দেখছে না। রাজনৈতিক বিতর্ক হতেই থাকে, কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক বিতর্ক চলেই সে- ঠিক আছে!
কিন্তু দেশের মধ্যে থেকে আসলে অন্য দেশ নিয়ে হঠাৎ ঝুটো মন্তব্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো যে সে মানুষ নন, একটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাই তাঁর মুখে যেকোনো কথাই গুরুত্ব পাবে সেটা তো স্বাভাবিক। আর সেই দুর্বল জায়গাটাতেই কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
মমতা জানেন, কট্টরপন্থী হাদির মৃত্যুর পর এই দেশে বিনা অপরাধে হিন্দুদের ওপর কীভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে। হিন্দুদের জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ নির্বিকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাদি বিষয়টাকে উস্কে দিয়ে কী তিনি দেশে দাঙ্গা লাগাতেই চাইছেন?
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আবারও FIR দায়ের হয়েছে ভারতে। উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার জন্য শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এখন মশলা পেয়েছে জামাতের আরেক বি টিম ইনকিলাব মঞ্চ। ব্যস! মমতার বক্তব্য লুফে নিয়ে শুরু করে দিয়েছে আন্দোলন।
“মুখ খুলো মমতা, জানতে চায় জনতা”— এই স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ও অবস্থান জানতে চেয়ে রাজপথে প্রতিবাদ হয়।
বাংলার মানুষের প্রশ্নের জবাব কি মিলবে? এখন কী বলবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? তিনি কী কোনো উত্তর দিতে পারবেন? উস্কে দিয়েছেন, সরে গিয়েছেন। এখন তৃণমূলের লোকেরাই মমতাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ওসমান হাদি ভারতবিরোধী একজন ছাত্রনেতা। জামাত শিবির তাকে মেরেছে এটা সর্বজনবিদিত।
হাদির হত্যার পর বাংলাদেশে এক উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।তার হত্যাকারীরা ভারতে ধরা পড়েছে এই ঘটনা তখন প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্ক আরো খারাপ হতো। তাই দেশের ইন্টেলিজেন্স থেকে তখনকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে ধৃতদের পরিচয় গোপন রাখতে অনুরোধ করা হয়।
কারণ ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক মেরামতি চলছে। প্রতিবেশির সাথে যুদ্ধ করে ভালো ফল লাভ হয় না। সেটা ভারত জানে ভালো।
সেই ঘটনাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনভাবে উপস্থাপন করলেন যে হাদি হত্যায় যেন ভারত সরকারের হাত ছিল। বাংলাদেশে এই নিয়ে ভারতবিরোধী প্রচার শুরু হয়ে গেছে।
পরবর্তীতে তিনি কি ধরনের গোপন খবর/মিথ্যা বলবেন তার কোনো ঠিকানা নেই। তিনি একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, আর তাই তিনি মিথ্যা বললেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সেই কথার একটা গ্রহণযোগ্যতা থাকবে।
বিজেপির কাছে ভোটে হেরে তিনি যে উন্মাদ হয়ে গেছেন তা দেখেছে সবাই।
কার নির্দেশে নিজের দেশের বিরোধিতা করছেন, বাংলাদেশে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছেন সেটা জনগণ খুব ভালো বুঝেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জড়িয়ে উস্কানিমূলক কথা বলেন।
আর তারপরই শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক মহলের একাংশ। পদ থেকে সরতেই কীভাবে দেশের অন্দরের তথ্য ফাঁস কীভাবে করলেন উঠছে প্রশ্ন।
আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। তাঁর অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে খুন হন বিতর্কিত ওসমান হাদি। হাদির হত্যাকারীরা গত জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে এলে দুজনকে গ্রেফতার করে রাজ্যের এসটিএফ।
এরপর এই নিয়ে ২ জুনের ভরা সভা থেকে মমতা নাম উল্লেখ না করলেও সেই প্রসঙ্গ তুলে ইঙ্গিত করেন, অন্য দেশে খুন হলেও কারা জড়িত তিনি জানেন। নাম জড়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকেরও। এতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
সেই কারণেই রিঙ্কি শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। রিঙ্কি বলেন, “উনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যাই কথা হোক, সেটা এখন বাংলাদেশের একটা হত্যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে সংগঠিত হত্যা বলে চালাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করলেন। বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা নত করলেন। মমতা বলেন,বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে STF গ্রেফতার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে বড় বিক্ষোভ হয়েছিল। অন্যদেশের কথা বলছি না, আমি যে পয়েন্ট বলছি ওরা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় আসে। এখানে আসার পর আমাদের STF ধরে। হোম মিনিস্টার নিজে বলছেন…এতদিন বলিনি আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছে বলে বললাম। উনি বললেন…আপনি বাংলার পুলিশকে বলে দিন এই কথা বাইরে যেন না বলে। এটা দেশের জন্য। কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, কার কার নাম বেরিয়েছিল…আমি সব জানি। আমার হৃদয় সত্য ভান্ডার।”
