ঢাকা: ঢাকায় গরম তো নয়, যেন আগুন ঝরছে। সারা দেশের গ্রামে গঞ্জের মানুষ তো রাজধানীতেই দুটো টাকা আয়ের আশায় আসে। অথচ এই গরমে দিনের বেলায় রাস্তায় বের হওয়া কঠিন, রাতেও মিলছে না স্বস্তি।
দিনের সময় বাড়ে, আর গরমও বাড়তে থাকে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে তাপপ্রবাহ ও অস্বাভাবিক গরম নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ বাড়ছে এই সময়।
এই পরিস্থিতিতে একটি শব্দ শোনা যাচ্ছে—‘এল নিনো’।
কি এই এল নিনো?
এল নিনো হলো বৃহত্তর ‘এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন’ চক্রের একটি উষ্ণ পর্যায়। সাধারণত নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব ও মধ্য অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে এল নিনো সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর দেখা দেয় আর স্থায়ী হতে পারে এক বছরও।
আর আগামির মাসগুলোতে আরও গরম হতে পারে পৃথিবী, বাড়তে পারে খরা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে এল নিনো।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাব শুধু আবহাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।
নিপাহ ভাইরাস আবিষ্কারকারী দলের অন্যতম সদস্য এমেরিটাস অধ্যাপক দাতুক ড. লাম সাই কিট জানান, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে মালয়েশিয়ায় নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পেছনে শক্তিশালী এল নিনো সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল।
তাঁর মতে, খরা এবং বন অগ্নিকাণ্ডের কারণে বাদুড়ের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা লোকালয়ে চলে আসে, যা প্রাণী ও মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। এইভাবেই বলা হচ্ছে রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এল নিনো।
তাছাড়া, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা এবং বন্যা হলে মশা ও অন্যান্য রোগবাহক প্রাণীর বিস্তারকে প্রভাবিত করে। এতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
আতঙ্কিত না হয়ে জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
