পাবনা: দেশটার বুঝি আর অবশিষ্টাংশটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। যা ভালো ছিলো সব নিংড়ে খেয়েছে জঙ্গী, জেহাদি, ধর্ষকের দল।

প্রতিদিন ধর্ষণ, প্রতিদিন খুন-নারী ও শিশু হত্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।

ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা জানান লেখক তসলিমা নাসরিন। তিনি বরাবরই এইসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

তসলিমা ফেসবুকের লেখেন, “বাংলাদেশের যুবসমাজ নষ্ট যুবসমাজ। এরা পচে যাওয়া, গলে যাওয়া যুবসমাজ।

এরা ধর্ম শিখেছে, নৈতিকতা শেখেনি।
এরা কুশিক্ষা পেয়েছে, সুশিক্ষা পায়নি।
এরা নারীবিদ্বেষ শিখেছে, নারীর অধিকার শেখেনি।

দায়ী রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষা ব্যবস্থা।
যে দেশের যুবসমাজ উচ্ছন্নে গিয়েছে, সে দেশ উচ্ছন্নে গিয়েছে”।

এই প্রতিবাদ তাঁর পাবনার একটি পৈশাচিক ঘটনা নিয়ে।

পাবনায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বস্তাবন্দী অবস্থায় পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় রহস্য উদ্ঘাটন করে প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

তবে আটক করলেই কী? এমন তো কত আটক হয়, তারপর আর কী? দুইদিন এই ওই, তারপর সব শেষ!

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান।

পুলিশ জানায়, নিহত কিশোরী পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

তার সঙ্গে চাচাতো ভাই নাইমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মঙ্গলবার রাতে নাইমের বাড়িতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তারপরেই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে।

মরদেহ গোপন করতে নাইম তার সহযোগীদের নিয়ে কিশোরীর হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দী করে। তারপর একটি প্রাইভেটকারে করে মরদেহ নিয়ে গিয়ে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়।

বুধবার সকালে দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় যাদের আটক করা হয়েছে তারা- পূর্ব রাঘবপুর এলাকার কাশেম উদ্দিনের ছেলে নাইম, একই এলাকার শফিক শেখের ছেলে ইয়াসিন শেখ এবং শিমুল প্রামাণিকের ছেলে তুহিন প্রামাণিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *