বরগুনা: বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে একজন হিন্দু নারী এবং তাঁর ২ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) বিকাল ৪টার দিকে মরদেহ ৩টি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা।
এই ঘটনায় আবারো হিন্দুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
যারা মারা গিয়েছেন , তাঁরা হলেন- বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রানী বিশ্বাস (৩৪), মেয়ে সন্তান আরাধ্য বিশ্বাস (১২) এবং ৩ বছরের অনুরাধা বিশ্বাস।
নিহত ইতি রানী বিশ্বাস জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে খণ্ডকালীন ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনা নিয়ে অনেক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তসলিমা নাসরিন।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন: “বরগুনার ডাকবাংলোয় ইতি রানী বিশ্বাস, তাঁর ১১ বছর বয়সী কন্যা অনুরাধা বিশ্বাস এবং ৩ বছর বয়সী কন্যা আরাধ্যা বিশ্বাসের মৃত্যুর ঘটনায় বহু প্রশ্ন উঠছে”।
তিনি প্রশ্ন করেন, “যদি এটি হত্যা হয়ে থাকে, তবে কেন একে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে? কারা লাভবান হবে এতে? প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা কেন চলছে?
পরিবারটি হিন্দু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সংখ্যালঘু নির্যাতনের আশঙ্কার প্রশ্নও উঠছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ কী—ধর্মীয় বিদ্বেষ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, নাকি অন্য কোনও ষড়যন্ত্র? নিরপেক্ষ আর স্বচ্ছ তদন্তে হলেই সত্য বেরিয়ে আসবে”।
আরো বলেন, “তিনটি প্রাণের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সত্য চাপা পড়ে গেলে অপরাধীরা বার্তা পায় যে তারা পার পেয়ে যেতে পারে, আর সাধারণ মানুষ বার্তা পায় যে তারা নিরাপদ নয়। এ কারণেই ন্যায়বিচার শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য জরুরি”।
ডাকবাংলোর তত্ত্বাবধায়ক লিটন বলেন, “আমি দুপুর ২টার দিকে ডাকবাংলোয় আসি। এসে ভাত খেয়ে উপরে উঠে দেখতে পাই, পাশাপাশি দুটি কক্ষের একটি কক্ষের দরজা খোলা। একটু সামনে গিয়ে দেখি, ইতির বড় মেয়ে অচেতন অবস্থায় খাটের উপর পড়ে আছে। অপর একটি রুমের দরজা বন্ধ দেখে আমি পুলিশকে খবর দেই। পরে বরগুনা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের লাশ উদ্ধার করেন।”
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, “ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ৩ জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভির ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে আরও তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে।”
হিন্দু হত্যাকে আত্মহত্যা বলেই চালানো হয় এই দেশে। এ আর নতুন কী?
