ঢাকা: আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতা আজ  ভয়ংকর। শিশু থেকে বৃদ্ধ মোদ্দাকথা নারী হয়ে জন্ম নিলেই এই দেশে ধর্ষিত হতে হবে বিকৃতকাম পুরুষদের কাছে।

ধর্ষণ আর হত্যার ঘটনা বাড়ছেই। মানুষ ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চায়।অপরাধীদের কোনো ছাড় নয়। ক্ষমতার প্রভাব যেন কাজে না লাগে।

৮ বছরের শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে সারা দেশ কেঁদেছে। দেশ বিচার চাইছে।

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার শিকার আট বছর বয়সী শিশু রামিসার বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বুক ফেটে যাবার মতো কথা বলেছেন, আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, একজন খণ্ডিত লাশের বাবা। কিন্তু আমি তো এভাবে পরিচিত হতে চাইনি। আমি গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছিলাম।

আজ, শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে বিএনপির উদ্যোগে গঠিত ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেল’ এর আয়োজনে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তিনি এই কথা বলেন।

রামিসার বাবা বলেন, ‘আমি জানতে চাই—এই দায়িত্ব কে নেবে? এই দায়িত্ব কি আমার অবহেলা, সমাজের অবহেলা, না রাষ্ট্রের অবহেলা? আমি আজকে খণ্ডবিখণ্ড আমার খুকুর সোনার টুকরা সন্তান—তার দায়িত্ব কে নেবে? আমি কি তার জন্য দায়ী? না কে দায়ী?’

বৈঠকে হাত জোড় করে সবার কাছে আবেদন জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি তো একজন ধর্ষিতার বাবা হয়ে থাকতে চাই না। আমি তো গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছি। আপনারা আমাকে সেই নাম ফিরিয়ে দেন। আমাকে সেই সম্মান ফিরিয়ে দেন।’

তিনি বলেন, ‘যদি তা না পারেন, তাহলে আপনারা কী দিতে পারবেন? এমন একটা অন্তত সমাজব্যবস্থা দেন, যেই ব্যবস্থায় আর কোনো দিন বাবা-মায়ের বুক খালি হবে না। আর কোনো বাবা-মায়ের সারা জীবনের জন্য কান্নার পথ খোলা থাকবে না। সারা জীবন তারা জিন্দা লাশ হয়ে থাকবে না।’

রামিসার হত্যার পর তার মা মানসিক ট্রমায় চলে গিয়েছেন। রামিসার বাবা জানান, ‘আমার স্ত্রী কোথায় যায়, কী বলে, নিজেই জানে না। তাকে প্রতিনিয়ত দেখভাল করতে হচ্ছে। সে সুস্থ হবে কি না, আল্লাহই ভালো জানেন’।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *