পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বিএনপি সরকারের মনোভাব কি তা এখনই পুরোপুরি বোঝা না গেলেও তা মন্ত্রীসভা গঠন, আবার সেখান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ থেকেই বোঝা যায়।

পারিবারিকভাবেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত দীপেন দেওয়ান যে নিজে থেকে পদত্যাগ করেননি তা বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু তাঁকে বলতে হয়েছে স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

তবে ওই যে ইংরেজিতে একটি কথা আছেনা- ‘মর্নিং শোজ দ্যা ডে।’ তবে এটি দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ নিয়েই শুধু বলছি না। এর সাথে অন্য কারণও আছে।

সেটি হলো- এই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আইন বহির্ভূতভাবে একজন অ-আদিবাসী বা অ-উপজাতীয়কে মানে একজন বাঙ্গালীকে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

এ জন্যই বলছিলাম যে, ‘মর্নিং শোজ দ্যা ডে’। কারণ বাংলাদেশের বিশেষায়িত অঞ্চল এই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কোনভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী বা উপজাতীয় ছাড়া অন্য কাউকে মন্ত্রী করার বিধান নেই। কিন্তু সে সবের কোন তোয়াক্কা করেননি জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।

স্বাভাবিকভাবেই এটিকে ভালো চোখে দেখেননি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে মানে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে তাদের মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না।

এই মীর হেলাল হচ্ছেন চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মীর মোহাম্মদ, নাছির উদ্দিনের পুত্র। যে মীর নাছির মূলত ছিলেন প্রচণ্ড সাম্প্রদায়িক।

শুধু ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক নয়, তিনি জাতিগতভাবেও সাম্প্রদায়িক ছিলেন- এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তার সময়কার রাজনীতিবিদগণ।

প্রসঙ্গত প্রায় তিন দশক আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের পর নির্বাচিত সরকারের আমলে এ ধরনের নিয়োগ এই প্রথম।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এই নিয়োগ কি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ? বর্তমান নিয়োগকে অনেকেই চুক্তির উদ্দেশ্য ও চেতনার পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন।

অবশ্য বিএনপিতো কখনোই শান্তিচুক্তির পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি ছিল না বাংলাদেশে। বিএনপির সাবেক দলীয় প্রধান ও সাবেক প্রদানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াতো প্রকাশ্য জনসভাতেই অসংখ্যবার এই পার্বত্য শান্তিচুক্তির চরম বিরোধীতা করে বক্তব্য দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, পাহাড়ে যাতে কখনো শান্তি ফিরে না আসে সেজন্য তিনি ও তার সরকার ও দল নানাভাবেই সেখানে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অশান্তি লাগিয়ে রেখেছিলেন।

বেগম জিয়া এমনও বলেছিলেন, ‘শান্তিচুক্তি হলে শুধু তিন পার্বত্য জেলা নয় চট্টগ্রামসহ ফেনী পর্যন্ত ভারতের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে’।

শুধু তাই নয় তিনি এমনও বলেছিলেন, ‘আওয়ামীলীগকে ভোট দিলে এই অঞ্চলের মসজিদগুলোতে আযানের পরিবর্তে উলুধ্বনি শোনা যাবে’।

বিএনপির মধ্যেকার বেশ কয়েকজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্য দেয়ার জন্য এই প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের পিতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনই বেশি মাত্রায় উষ্কানিমূলক পরামর্শ দিয়েছিলেন।

এই মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলায়। এবং সেখানে যে বড় কওমী মাদ্রাসা রয়েছে সেটির এবং আরো যেসব কওমী মাদ্রাসা রয়েছে সেগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন মীর নাছির।

অন্তত ২৫ বছর আগে হাটহাজারিতে পাহাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হরকাতুল জেহাদের (হুজি-বি) বাংলাদেশ শাখার কয়েকজন ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছিল।

তখন তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র, জেহাদী বই, পোশাক, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম ঠিকানা যারা ওই হুজ-বি কে সাহায্য করতো তাদের নামের তালিকাও পেয়েছিল।

সেই তালিকার মধ্যে এই মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের নামও ছিল। শুধু তাই নয়, এই হরকাতুল জেহাদের ক্যাডাররা পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছিল যে, মীর মোহাম্মদ নাইছর উদ্দিনের এক ভাই এবং তিনি নিজে এই জঙ্গী গোষ্ঠীকে আর্থিক-প্রশাসনিক সহায়তা করেছেন।

এই মীর নাছির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও পরে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেছেন।

একসময়ে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারির মেখলে ইসকনের মন্দিরের জায়গা সম্পত্তি নিয়েও প্রচুর বিরোধের সৃষ্টি করেছিল মীর নাছির ও তার পুত্র মীর হেলাল।

এই মীর হেলালই কিন্তু এখনকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। শুধু তাই নয় তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন। সুতরাং সেদিক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদ্যসাবেক পূর্ণমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের চেয়েও মীর হেলার অনেক বেশি শক্তিশালী।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের সঙ্গে সেটেলার বাঙ্গালীদের মধ্যে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে অনেক আগে থেকে। সে ক্ষেত্রে এই প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক শিক্ষা অনুযায়ী সেটেলার বাঙ্গালী মুসলমানদের পক্ষে রয়েছেন।

অথচ এই বাঙ্গালী সেটেলাররাই তিন পার্বত্য জেলাতে সবচেয়ে বেশি অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর মধ্যে পাহাড়ের রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন জনের সঙ্গেই কথা হয়েছে। তাদের অনেকেরই অভিমত- পার্বত্য চট্টগ্রামের যে জটিল প্রক্রিয়ার রাজনীতি তাতে পাহাড়ি আদিবাসীদের পক্ষে থাকার কোন সুযোগ নেই। ফলে দীপেন দেওয়ান বিএনপির একনিষ্ঠ রাজনীতি করলেও তাকে সরে যেতে হয়েছে ক্ষমতা থেকে।

কারণ বিএনপি’র দলীয় নীতি-আদর্শ কোনভাবেই আদিবাসী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পক্ষে নয়। পাহাড়ের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ও সেখানকার কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গেও কথা হয়েছে এর মধ্যে।

তাদেরও অভিন্ন বক্তব্য এমন- বাংলাদেশের ভেতরে হলেও রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এই তিন পার্বত্য জেলায় সেনাবাহিনী ও সেনা গোয়েন্দা সংস্থার নজরের বাইরে কাউকেই সেখানে খবরদারি করতে দেয়া হবেনা।

তা সে মন্ত্রীই হোক বা প্রশাসনের বড় কোন পদাধিকারিই হোন। দীপেন দেওয়ানের স্ত্রী শিক্ষকতা করতেন যতটুকু জানি। পিতার রেখে যাওয়া পারিবারিক সম্পত্তি রয়েছে মোটামুটি যা দিয়ে তাদের পরিবারের ব্যয়ভার নির্বাহ হয়ে যেতো।

তিনি বিএনপির রাজনীতি করলেও রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলাতে মোটামুটিভাবে দীপেন দেওয়ান সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবেই পরিচিত।

এর পাশাপাশি তিনি পাহাড়ি আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণেরও পক্ষে ছিলেন। ⁠পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) বা সংক্ষেপে জেএসএস এর সঙ্গে তার একটি ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন বলেও শোনা যায়।

অনেকের মতে পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে পাহাড়ে অবস্থানরত সব পক্ষের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক থাকাটি জরুরী। সেক্ষেত্রে দীপনে দেওয়ান তেমনটিই করার পক্ষপাতি ছিলেন। কিন্তু তা আর হওয়ার কোন জো নেই সেনাবাহিনী ও সেনা গোয়েন্দাদের এড়িয়ে।

কারণ বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি ও প্রশাসনে সেনাবাহিনীর ইশারার বাইরে বা তাদের অনুমতির বাইরে গিয়ে কোন কিছুই করা সম্ভব না। এটি সবাই বোঝেন, কিন্ত কিছু বলেন না বা বলার সৎসাহস দেখান না।

কারণ সে সৎ সাহস বা দুঃসাহস যাই বলি না কেন কোনটিই দেখানোর উপায় রাখেনি রাজনৈতিক সরকারগুলো। কারণ তারা নিজেদের আধিপত্য মানে পাহাড়ের রাজনীতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন।

আর সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনী হচ্ছে তাদের মূল শক্তি। আর এই শক্তির কাছে রাজনৈতিক দলগুলো নিরুপায়। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো এই সেনাবাহিনীর ওপর এত বেশি নির্ভরশীল যে তাদের হাত-পা বাঁধা এই বাহিনীর কাছে।

মূলত সেনাবাহিনী বা সেনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রবল বিরোধীতার কারণেই দীপেন দেওয়ানকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে, এমনটাই আপাতত জানা গেছে।

তবে একটি সূত্র এমন অভিযোগ করেছে যে, দীপেন দেওয়ানের সঙ্গে ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোর কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর একটি যোগাযোগ ছিল। এবং সেটি ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে জানানোর পর বাংলাদেশের বিএনপি দলীয় সরকার তাদের দলীয় নেতা ও মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করিয়েছে। কিন্তু এই তথ্যের তেমন কোন বিশ্বস্ত ও গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

এরমধ্যে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন জোট পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একজন অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহারের দাবি জানায়। তাদের মতে, মন্ত্রণালয়ে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

৩ মার্চ ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন, ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সক্রিয়করণ এবং পার্বত্য পরিষদগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরুর দাবি জানায়।

এ ছাড়া ২৫ ফেব্রুয়ারি পাহাড়ের ৩৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে একে চুক্তির লঙ্ঘন আখ্যা দেন এবং প্রতিমন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়নের আহ্বান জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি তাই কেবল ব্যক্তিগত বা দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। এটি পার্বত্য চুক্তির অঙ্গীকার, আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সংবেদনশীলতা ও রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার প্রশ্নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

সরকার যদি উত্থাপিত উদ্বেগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দপ্তর পুনর্বণ্টন, চুক্তি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা ও অংশগ্রহণমূলক সংলাপের উদ্যোগ নেয়, তবে তা পার্বত্য অঞ্চলে আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে।

অন্যথায়, এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘ মেয়াদে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অবিশ্বাসকে আরও গভীর করার ঝুঁকি বহন করবে। ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিচক্ষণতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির বিকল্প নেই।

কিন্তু দেখা গেলো- অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে অন্যত্র বদলী করার চাইতে যিনি পাহাড়ি আদিবাসীদের কাছে এমনকি পাহাড়ি বাঙ্গালিদের কাছেও আস্থাবান ছিলেন সেই দীপেন দেওয়ানকেই সরিয়ে দেয়া হলো।

যদিও তিনি তার পদত্যাগে বলেছেন স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তা কেউই বিশ্বাস করছেন না।

এদিকে দীপেন দেওয়ান তার পদত্যাগের পর রাঙ্গামাটিসহ অন্য পাহাড়ি জেলাতে আন্দোলন-বিক্ষোভ সম্পর্কে বলেছেন- “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে বড় বিষয়। তাই আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগণের কাছে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। মত-পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু সংঘাত নয়। আমার একান্ত কামনা, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক, উন্নয়নের সুফল ভোগ করুক এবং এই অঞ্চল সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে উঠুক।

এমনকি তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নেতৃত্বের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থাশীল, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে চাই। আমি আবারো দীপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করছি- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আমার শেষ ঠিকানা।”

এরই মধ্যে রাজনীতিতে বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করলেন সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি ২৯৯ আসনে দীপেন দেওয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করা দুই প্রার্থী, পহেল চাকমা ও আবুল বাশার।

পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ করা এই মন্ত্রীকে স্বপদে পুনর্বহাল করে, তারই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালকে অপসারণেরও দাবি জানিয়েছেন এরা দুজন। প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করেই তারা এ দাবি জানান।

যেই নির্বাচনে পহেলা চাকমাই ছিলেন দীপেন দেওয়ানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। একসময় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রাজনীতি করা পহেল সর্বশেষ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই লড়েছিলেন।

গত ৪ জুন রাঙামাটি শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এম এ আবুল বাশার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে পহেল চাকমা জানালেন, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি হয়। সেই মোতাবেক পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দীপেন দেওয়ানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পাহাড়ের মানুষ ছিল আনন্দিত। তবে একই সঙ্গে ছিল হতাশাও। কারণ পার্বত্য এলাকার বাইরে থেকে একজনকে প্রতিমন্ত্রী দেওয়ার কারণে। এটি ছিল পার্বত্য চুক্তি ও আইনের পরিপন্থি। তিনি বললেন, দীপেন দেওয়ানকে চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তাকে পুনরায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জোর দাবি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।

গত শনিবার ( ৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের দুই যুগ্ম সমন্বয়ক মানবাধিকারকর্মী জাকির হোসেন ও অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কেরা আরো বলেন, মন্ত্রীর পদত্যাগ বিষয়ক ঘটনাবলি চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দেশবাসীর মনে সন্দেহ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না।

সেই লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন করা খুবই জরুরি এবং একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে সক্রিয়করণ করাটাও অত্যাবশ্যক।

সবকিছু মিলিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে।

# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *