ঢাকা: একাত্তর ও বায়ান্নর গৌরবান্বিত ইতিহাস মুছে দিতে এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরু করেছে ক্ষমতাসীন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি।
অবশ্য এই চেষ্টা শুধু তাদের না, এটা পাকিস্তানপন্থীদের সম্মিলিত চেষ্টা।
বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের অনার্স কোর্স যে বাতিল হচ্ছে, এই নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে জনগণ।
নতুন প্রজন্মের মানসপটে প্রগতিশীলতা ও স্বাধীনতার চেতনা নিশ্চিহ্ন করে দেয়াটাই হচ্ছে উদ্দেশ্য।
একটি বিষয় খেয়াল করে দেখুন উর্দু, ফার্সি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়াবলীর ওপর এরকম নিষেধাজ্ঞা আসছে না। এর মানে কি দাঁড়ায়?
ইতিহাস ও দর্শন মিলেই বাংলা সাহিত্য। আর ইতিহাস না জানলে, ভাষা না জানলে মেরুদণ্ড কী শক্ত হয়?
তার মানে বাংলা সাহিত্যের মূলৎপাটন করা হচ্ছে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে চায় সরকার তার সদুত্তর জানা নাই।
বাংলা অনার্স কোর্স বন্ধ হলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর উচ্চ শিক্ষার দুয়ার বন্ধ হয়ে যাবে। সংস্কৃতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।
কবিতা, উপন্যাস, নাটক, গল্প লেখার মানুষ আর জন্মাবে না। এমনিতেও আর নেই এখন।
যখন সরকার দেখেছে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখানোর হচ্ছে, তখনই বলে এটা ভিত্তিহীন খবর।
অনার্স (স্নাতক সম্মান) পর্যায় থেকে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয় বাদ দেওয়া হচ্ছে—এ ধরনের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পরিষ্কার কীভাবে মিথ্যা কথা বলে দিলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো বিষয় বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং চাহিদা অনুযায়ী অনার্স পর্যায়ে নতুন বিষয় যুক্ত করার বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে।
এদিকে সচিবালয়ে পৃথক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ থাকবে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে তা বাধ্যতামূলক থাকবে কি না—সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
