ঢাকা: ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

ওসির কক্ষে ঢুকে জঙ্গী মাহাদী হাসানের এই বক্তব্য মনে আছে তো? স্বঘোষিত পুলিশ হত্যাকারী মাহাদী এখন পাগলের মতো এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সেই সমন্বয়কের এখন জীবনের নিরাপত্তা নেই।

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে ডিসি অফিসের ভেতরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়। এবার অভিযোগ করা হয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার উপর হামলা করেছে।

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানকে ডিসি অফিসের ভেতরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এবার অভিযোগ করা হয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ডিসি অফিসের ভেতরে ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন তিনি।

এর আগে গতকাল ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালাতে আসছেন অভিযোগ করে মাহাদী বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করেন। এ সময় দেখা যায়, তিনি আতঙ্কে কাঁপছেন। রিকশায় বসে চিৎকার করে চলেছেন ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।

প্রাণ বাঁচাতে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে ছুটছেন হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে। লাইভের শেষ দিকে তিনি থানা কমপাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্যের আর্তি জানান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান লাইভে দাবি করেন, ছাত্রদলের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছেন। এ ঘটনায় তিনি সদর থানায় আশ্রয় নিয়েছেন।

ফেসবুক লাইভে মাহাদী বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?’

লাইভের শেষে তিনি বলেন, ‘আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা।

আমি আগেই জানিয়েছিলাম এখানে আমার একটি নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। তার পরও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।’

মাহাদী হাসানের দাবি, তিনি আগেই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছিলেন। পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা তাকে আশ্বস্তও করেছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি পুরো নাকি বদলে যায়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *