ঢাকা:’ আদ দ্বীন হাসপাতাল নামক হিংস্র নরখাদক পশুদের আস্তানার লাইসেন্স বাতিলকে স্বাগত জানাই’। এই বক্তব্য আমাদের নয়। এই বক্তব্য এই হাসপাতালে আরো যারা ভুক্তভোগী হয়েছেন তাঁদের। এই হাসপাতাল ঘিরে অভিযোগ ছিলোই। তবে এবার ছয়টি নবজাতক শিশু মারা যাবার পর আরো সামনে এসেছে বিষয়গুলো।
সেখানকার ডাক্তার, কর্মীদের ব্যবহার নিয়েও অভিযোগ আছে।
শুধুমাত্র টাকা কামানোর ধান্দায় লিপ্ত তারা, তাদের গোটা ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করে জনগণ।
এমনও অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের NICU তে এরা ইচ্ছা করেই বাচ্চাদের অবস্থা জটিল করে তোলে যাতে বিল বেশি আসে। এভাবে এরা অগণিত সুস্থ শিশুকে হত্যা করেছে অদ্যাবধি কোন বিচার হয় নাই।
এক ভুক্তভোগী লিখেছেন, ‘আমার কলিজার টুকরা ভাতিজি তাবিয়া প্রিম্যাচ্যুরিটির কারণে আদ দ্বীন নামক ডাকাতি সেন্টারের NICU তে ২.৫ মাস
ওরা ইচ্ছাকৃতভাবে রেখেছিলো, বাচ্চার মুখে টেনে বুকের দুধ খাওয়ার সুযোগ থাকার পরেও, অন্য মায়ের দুধ এভাইলেবল থাকার পরেও ওরা ইচ্ছা করেই ফর্মুলা মিল্ক খাইয়ে পেট ফাঁপিয়ে তুলে বাচ্চার অবস্থা খারাপ।করে দিয়েছিলো’।
এই যে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, এটা যেন আমি ওয়াশ না হয়, সেকথাও বলছে সতর্ক জনগণ।
এইদিকে, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছেন, ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত জামায়াতের ফেসবুক পেইজের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ জন নবজাতকের মৃত্যু হলে আমরা সবাই এ ঘটনায় গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করি। ঘটনাটি অবশ্যই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে। এটি মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
তদন্তের মাধ্যমে কোনো অবহেলা, ত্রুটি কিংবা অপরাধ চিহ্নিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, যে হাসপাতালটি ‘গরিবের হাসপাতাল’ নামে পরিচিত এবং মানসম্মত সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, তারই লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হলো। শেষ পর্যন্ত ক্ষতি জনগণেরই হলো।
তাছাড়া এটি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এখানে সম্ভবত ৪০০-৫০০ মেডিকেল শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। এর পাশাপাশি নার্সিং কোর্সও চালু রয়েছে। এখন তারা যাবে কোথায়?
