Oplus_131072

ঢাকা: গৌরবময় এক অধ্যায়ের অবসান ঘটলো। বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের মুজিব বাহিনীর প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি যশোরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন সাদা মনের মানুষটি আর নেই।

মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি অসীম সাহস, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেছিলেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর অবদান যশোর বাসের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

দেশের সন্তানরা চলে যান, কিন্তু বেঁচে থাকে তাঁদের আদর্শ।

জাতির এই গর্বিত সন্তান চলে গেলেও তাঁর সংগ্রাম, ত্যাগ ও বীরত্বের কাহিনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকবে।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং মুজিব বাহিনীকে নেতৃত্ব দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

৬০-এর দশকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি যুক্ত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তিনি সামনের সারিতে থেকে তৎকালীন স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করেন, যা যশোরাঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি তৈরি করেছিল।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে প্রথম ব্যাচের যোদ্ধা হিসেবে ভারতের দেরাদুনে মুজিব বাহিনীর (লিবারেশন ফোর্স) বিশেষ ও উচ্চতর গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দেশে ফিরে আসেন এবং বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের মুজিব বাহিনীর প্রধান (কমান্ডার) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি হার্ট, কিডনি ও শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১২ মে শহরের রেলবাজারস্থ নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে আলী হোসেন মনিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে যশোরে ফেরার পর গত সোমবার আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার রাতেই তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *