ঢাকা: হাম কি নিজে নিজে ফেরত এসেছে? বিলুপ্ত রোগ যে ফিরে এসে শিশুগুলোর জীবন কেড়ে নিচ্ছে এটা কার জন্য হয়েছে? সেই ইউনূস এখন অবধি বহাল তবিয়তে আছেন। দেশে বিদেশে ভিভিআইপি নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
হামের টিকা সংকট এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং এখনো ঘটছে।
টিকা আমদানিতে জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলার কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং রোগটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সঙ্গে যে চেলা চামুণ্ডারা ছিলেন, দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহেলা এবং টিকা সংগ্রহে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সংকট তৈরি হয়।
হামের টিকা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সাফ জানান, টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে অন্তত ১০ বার সতর্ক করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে ৫টি চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, অর্থের অভাব নয়, বরং ক্রয়সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই টিকা সংকট সৃষ্টি হয়েছিল।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে শুধু যে টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছিল, তা-ই নয়, গোটা স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করে দিয়েছেন- এই অভিযোগ করেছেন স্বয়ং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তাঁর কথায়, এই কারণেই মহামারী হিসেবে হাম ছড়িয়ে পড়েছে, লক্ষাধিক শিশু তাতে আক্রান্ত হয়েছে, সরকারি হিসেবেই মারা গিয়েছে সাড়ে ছ’শো। ‘বর্তমান সরকারও এ সবের তদন্ত না-করে আওয়ামি লিগকে দোষারোপের মিথ্যাচারে ব্যস্ত।’
এক গণমাধ্যমে এই কথা বলেন শেখ হাসিনা।
হাসিনা বলেন, ‘আমি দৃঢ় ভাবে বলতে চাই, হামে শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ী প্রতিটি ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে! যাঁরা টিকাকরণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাঁরা ‘হু’-র সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছেন, যাঁরা টিকা সরবরাহ ব্যাহত করেছেন, তাঁদের জবাব দিতেই হবে। স্বাধীন তদন্ত করতে হবে। যাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলা, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হবে, তাঁদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।’
আসলেই তো, শেখ হাসিনা দেশ থেকে একেবারে নির্মূল করে ফেলেছিলেন হাম। টিকা তখন সবাই পেয়েছে, কোনো অসুবিধা ছিলো না।
অথচ এই রোগেই এখন প্রতি ২৪ ঘন্টায় ৭/৮ জন করে শিশু মারা যাচ্ছে।
হাসিনা বলেন, ‘সব চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো— এই শিশুরা এমন একটা রোগে মারা যাচ্ছে, যা আমরা প্রায় নির্মূল করার পর্যায়ে ছিলাম এবং সব ঠিক থাকলে ২০২৬–এই আমরা বাংলাদেশকে হাম-মুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা করতাম।’
