ঢাকা: একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারের সাথে যে ঘটনা ঘটলো তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ক্রিকেটার, শিল্পীদের সাথে যেরকম ব্যবহার হচ্ছে দেশে, তাতে হয়তো আর এই দেশে কেউ খেলোয়াড়, শিল্পী হতে চাইবে না।

নাঈম হাসানের সাথে শুক্রবার দিবাগত রাতে যা হয়েছে তা সব কল্পনাকেও পরাজিত করবে! খুলশী থানায় কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করা ন‍্যাশনাল ক্রিকেটার!

প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচ খেলে নিজ শহরে ফেরার পথে ফ্লাইট বিলম্ব, চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর সিএনজি নিয়ে যখন লালখান বাজার এলাকায় তখনই টহল পুলিশ তাঁকে আটকায়!

নাঈম নিজের পরিচয় দেন, জাতীয় দলের কার্ড দেখান, তাঁকে তল্লাশি করতেও বলেন। তবে সেসব কথা কে শোনে?

অভিযোগ যে তাঁকে নামিয়ে গলা চেপে ধরেন সাদা পাঞ্জাবি পরা একজন! এরপর লাঠি দিয়ে পেটানো হয়! নাঈমের চিৎকার করতে থাকেন।

চিৎকার শুনে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে যায়! সবাই তাকে চেনে শুধু ঐ আক্রমণকারীরা ছাড়া !

পুলিশ ড্রাইভারের কাগজপত্র চেক করে প্রথমে। পরবর্তীতে নাঈমের ব্যাগ না করেই করে বলে, “তুই আসামী, গাড়িতে ওঠ”!
সেখানে ২ জন পুলিশ ছিলো, সাদা পোশাকের ডিবি পুলিশ পরিচয়েরও পুলিশ ছিলো। পরিচয় দেওয়ার পরেও নাঈমকে পেটানো হয়। এস আই শফিক নাঈমের গলা টিপে ধরে।

এরপর নাঈমকে সিএনজির ভেতরে বসিয়ে লক করে দেওয়া হয়। নাঈম ওর আব্বুকে কল দেয়, এরপর কেড়ে নেয়া হয় ওর ফোনটা।

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে আটক ও হেনস্থার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নাঈমের ভাই সাব্বির হাসান বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন।

নাঈম হাসান অভিযোগ করেন, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) শেষে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন।

পথে টোল প্লাজা এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি তার গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নাঈমের ভাষ্য, একপর্যায়ে তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে খুলশী থানায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে হেনস্থা করা হয়।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম বলেন, একটি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিক নাঈমকে থানায় নিয়ে আসেন। বিষয়টি তাকে আগে জানানো হয়নি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, চোরাচালান-সংক্রান্ত একটি অভিযানের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় পুলিশি তৎপরতা চলছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, দায়িত্ব পালনের সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নির্ধারিত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *