ঢাকা: পাকিস্তানপন্থী, দেশবিরোধী, রাজাকার জামাত বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটা ইতিবাচক বার্তার খুঁত ধরলে। শুধু খুঁত না, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে রীতিমতো।
জামাত রাজাকার তো ভারতের নামে ভূত দেখে! তাই কেউ যদি ভারত বাংলাদেশ-দুই দেশের মিলনের বার্তা দেয়, কাজকর্মের বার্তা দেয়-সুস্থির রাজনীতির বার্তা দেয়- সাথে সাথে তাদের মাথার চুল দাঁড়িয়ে যায়।
গেলো গেলো শুরু হয়ে যায় সাথে সাথে। এবারো নির্লজ্জভাবে একই কাণ্ড করলেন সাদা শকুন শফিকুর রহমান।
উল্লেখযোগ্য যে, শুক্রবার সকালে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় আসেন।
তিনি যথেষ্ট মার্জিত একজন মানুষ। এবং বাংলা সম্পর্কে অত্যন্ত ভালো জ্ঞান রাখেন। ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার তো আর এমনি এমনি পাঠায়নি ত্রিবেদীকে!
বাংলাভাষী রাষ্ট্রদূত পাঠিয়ে ‘অস্থির সময়ে’ দিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ।
২৪ সালের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি হয়। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস যেভাবে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছিলেন তাতে ক্ষুব্ধ হয় ভারত।
শুধু তাই নয় , বিভিন্ন সময় ভারতবিরোধী মন্তব্য করেছেন ৷ ভারতকে টুকরো করার কথাও বলা হয়েছে ৷ তা দু’দেশের সম্পর্ককে আরও শিথিল করেছে। ছন্দপতন হয় ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আমদানি-রফতানি বাণিজ্যেও।
তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে ৷ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান ৷ তাঁর সরকার ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক দৃঢ় করতে চাইছে। দিল্লিও বাংলাদেশ সম্পর্কে আগের অবস্থান বদল করেছে।
এমন সময় দীনেশ ত্রিবেদীর বার্তাকে নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে জামাত।
বাংলাদেশে পা রেখে দীনেশ ত্রীবেদী বলেন, “খুব ভালো লাগছে ৷ এক ভাই অন্য ভাই-বোনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে ৷ আমার দেশের জনসংখ্য়া ১৪০ কোটি ৷ এর সঙ্গে আরও ২০ কোটি যোগ করুন (বাংলাদেশের সম্ভাব্য জনসংখ্যা) ৷ আমি যা করব তা এই ১৬০ কোটি মানুষের জন্য ৷ যা হবে একসঙ্গে মিলেমিশে হবে ৷ আলাদা করে কিছু হবে না৷ মনে হচ্ছে না আমি বাংলাদেশে আছি ৷ একই আকাশ একই বাতাস ৷ আমরা মিলে মিশে একসঙ্গে কাজ করব ৷”
জামাত এই কথা শুনে কাৎ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের সুরাহা চেয়েছেন জামায়াতের ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরের জামায়াত আমির নিজের ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গতকাল বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পৌঁছানোর পর তার একটি বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি ‘‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেওয়া।’
ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘ভারত যেমন একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশও তেমনি একটি স্বাধীন দেশ। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সরকারের কাছে বিষয়টির সুরাহা চাই। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।’
