ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া না দেওয়া, পুশইন-পুশব্যাক , সীমান্ত হত্যা, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার ত্রিবেদীর মন্তব্য, জাহেদ’স টক এর মালিক ডা.জহেদ উর রহমান, এনসিপি’র নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির কর্মকান্ড নিয়ে দুই দেশের রাজনীতি এখন উত্তপ্ত।
ভারতীয় পক্ষ কথা বলেই খালাস। এর পর চুপ থাকে তারা। কিন্তু লাফাতে থাকে বাংলাদেশের কিছু চ্যাংড়া আর অবিবেচক- অবিমৃষ্যকারী রাজনীতিবিদগণ।
আর এসব দেখে সাধারণ জনগণও কিছুটা উত্তেজিত হয়। আর সেই সাথে কট্টর ভারতবিরোধী ইসলামী বিপ্লবের জোশে জোশিয়ানরা লাফাতে থাকে সেই ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মত।
কি অবাক হচ্ছেন এ ধরনের মন্তব্যে? বলছি এ কারণেই যে, অযৌক্তিকভাবে লাফালাফি-ভারত সীমান্তে গিয়ে চরম উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া, লোকজন নিয়ে ভারত দখলের হাস্যকর হুমকি, বিএসএফ-বিজিবি বৈঠকে যৌক্তিক গ্রহণযোগ্য পয়েন্ট উত্থাপন করতে না পেরে লেজ গুটিয়ে পলায়ন মানে বাংলাদেশ ফেরত আসা নিশ্চয়ই আমাদের দেশের জন্য সম্মানজনক কোন কিছু নয়।

চোখে চোখ রেখে কথা বলার মত হিম্মত থাকা চাই ভাই এজন্য। শুধু বক্তব্য দেয়ার সময় নেতা একলাইন বক্তৃতা করার পর পরই শেয়ালের মত হুক্কাহুয়া রবে “.হেই..হেই ”করা নিশ্চয়ই কোন বিপ্লব বয়ে আনবেনা।
কথায় বলেনা- বন্ধু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায়না।
তো আমাদেরকেওতো সেই কথাটি মনে রাখতে হবে। ধরেই নিলাম ভারত আমাদের চরম শত্রু। কিন্তু সেই শত্রুকেতো আর প্রতিবেশি হিসেবে আমরা অস্বীকার করতে পারবোনা শত চেষ্টা করলেও।
তাই যদি হয়, তাহলে অযৌক্তিকভাবে তার সাথে বিরোধ না বাড়িয়ে বরং কেমনে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান করা যায় সমস্যাগুলো সে চেষ্টাইতো করা উচিত। না তা না করে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করাই যেন আমাদের স্বভাবে পরিণত হয়ে গেছে।
হ্যাঁ, এভাবে ঝগড়া আমরা করতে পারি, তবে তা সামাল দেয়ার সক্ষমতা আছে কিনা সেটাওতো মাথায় রাখতে হবে।
প্রবাদ আছে গ্রামদেশে- ছাগল নাচে খুঁটির জোরে। তো বাংলাদেশের সেই খুঁটির জোরটি কোথায়? একাত্তরে অকাতরে-নির্মম-নৃশংস ও নির্দয়ভাবে বাঙ্গলী হত্যাকারি পাকিস্তান। আবার সেই পাকিস্তানের দোসর ছিল সমাজতন্ত্রী চীন ও সাম্রাজ্যবাদ ও পূঁজিবাদের মোড়ল আমেরিকা।
তো সেই চব্বিশের জুলাই-আগষ্ট এর জঙ্গী-সামরিক ক্যু এর পর থেকে এই ‘ত্রিরত্ন’ ই কি সেই ছাগলের খুঁটি? সঙ্গে জুটেছে নতুন ইসলামী অস্ত্র ব্যবসায়ী তুরস্ক।
অথচ যেই আধুনিক তুরস্কের জনক কামাল আতাতুর্কের মত একজন বিশ্বনেতা। সেই তুরস্ক এখন ‘ইসলামী অস্ত্র ব্যবসায়ী’ ও ষড়যন্ত্রকারি হিসেবে নাম লিখিয়েছে।
আর এদের ওপর ভরসা করেই নাচছে বাংলাদেশের ইসলামী ফ্যানাটিক গ্রুপ ও মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক সেনাশাসক-রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি।
সেনা-ষড়যন্ত্রে নিহত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একমাত্র জীবিত পুত্র তারেক রহমান বাইচান্স প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। কিন্তু তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে ছিলেন রাজনৈতিক আশ্রয়ে।
তিনি ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সপরিবারে যুক্তরাজ্যে গমন করেন এবং ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন। তবে তার আগে ২০২৫ এর ২৯ নভেম্বর তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন- ‘দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’
তার মানে তখনকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তার অনুকুলে ছিলনা। তারমানে তাকে দেশে ফিরতে কোন বিদেশী শক্তি কোন না কোন কৌশলে জোরালো ভূমিকা রেখেছিল।
কিন্তু সেই দেশটির নানামুখী সহযোগিতায় তারেক রহমান সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার তিনমাস অতিক্রান্ত হতে না হতেই একটু একটু করে উল্টোদিকে হাঁটতে শুরু করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কূটনৈতিক সূত্রমতে যতদূর জানা গেছে, তার এ চরিত্রটিকে খুব একটা ভালো চোখে দেখছেন না তার সেই শুভানুধ্যায়ী বন্ধুদেশ।
বরং এমনভাবে পাকিস্তান-চীন-তুরস্ক-আমেরিকার দিকে ঝুঁকে যাচ্ছেন যা সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবেনা। কারণ এসব দেশ শুধু তাদের স্বার্থেই ব্যবহার করবে বাংলাদেশকে, যেমন অতীতে করেছে।
এরইমধ্যে টোকাইদের জঙ্গী সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ওরফে ‘ডার্বি নাসির’ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, পুশ-ইন এবং সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও প্রতিরোধমূলক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
সম্প্রতি বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন এবং ঢাকার শাহবাগে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে তিনি ভারতসহ দেশীয় নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্য করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এই ডার্বি নাসির বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর সমালোচনা করে বলেন, “যদি সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে না পারেন, তবে আমাদের দায়িত্ব দিন”।
পাশাপাশি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুমকি দিয়ে বলেন, “আমাদের হাতে আধুনিক অস্ত্র না থাকলেও, আমরা বাঁশ হাতে সীমান্তে দাঁড়িয়ে পাহারা দিতে প্রস্তুত। কোনো ধরনের ভারতীয় পুশ-ইন বা অনুপ্রবেশ আমরা বরদাস্ত করব না।” সীমান্তে ‘মানব প্রাচীর’ গড়ে তোলারও ঘোষণা দেন।
ভারতীয় সীমান্তে গিয়ে ডার্বি নাসিরের এ ধরনের চরম উষ্কানি ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলার নাগরিকদের মধ্যে আরো বেশি পরিমানে ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরী করবে। কারণ এদের মধ্যে একধরনের ইসলামী জোশের নহর বইতে শুরু করে এবং অনেকটা সেই হিপনোটাইজ ড্রাগ কেপ্টাগন সেবনের পর যে আচরণ করে থাকে এই ড্রাগসেবীরা সীমান্তের লোকজনের মধ্যেও সেই একই ইসলামী কেপ্টাগন কাজ করতে থাকে।
এরফলে যেকোন সময় দুই দেশের সীমান্তে অঘটন লেগে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
আসলে এই ডার্বি নাসিরদেরকে এই উষ্কানিমূলক কাজে লাগানো হয়েছে অত্যন্ত কৌশলে। আগে যেমন ওসমান হাদি ছিল।
ওসমান হাদিকে জামায়াতে ইসলামী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় প্রকাশ্যে খুন করে সরিয়ে দিয়েছিল তাদের রাজনৈতিক মাঠের ইস্যু ধরে রাখতে।
প্রয়োজন হলে এমন আরো ওসমান হাদি, ডার্বি নাসির টাইপের রাজনৈতিক বেয়াদপ সৃষ্টি করে তাদের পেট্রোনাইজ করা হবে। আবার সময় সুযোগ বুঝে এদেরকে নানা কৌশলে নিষ্ক্রিয় বা একেবারেই সরিয়ে দেয়া হবে। ইসলামের নামে ভারত বিরোধীতা ও হিন্দু বিরোধীতার নামে এদেরকে ব্যবহার করা হয় শুধু।
তবে একটু খেয়াল করলে দেখবেন একসময়ের কথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যা পরে এনসিপিতে রূপান্তরিত হয় সে দলের নাহিদ, সারজিস (সারভিস নামে অধিক পরিচিত), হাসনাত আবদুল্লাহ মানে ‘কালোপাঁঠা’, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এরা কিন্তু মাঠে ময়দানে খুব একটা আসছেনা। এরা টাকা-পয়সা বানানোর ধান্ধায় প্রচন্ড ব্যস্ত।
এই ডার্বি নাসিরকে আবার কেউ কেউ মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে তুলনা করা শুরু করে দিয়েছেন তার এই চরম ভারতবিরোধী আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যের কারনে। আপনাদের নিশ্চয়ই খেয়াল আছে “চলো চলো ফারাক্কা চলো”- এই শ্লোগান তুলে মাওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ মে রাজশাহী মহানগরের মাদ্রাসা ময়দান থেকে শুরু করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন কানসাটে গিয়ে ভারতবিরোধী একটি সমাবেশ করেছিলেন।

তিনি কখন ফারাক্কা ব্যারেজ দিয়ে গঙ্গা থেকে পানি ছাড়ার দাবিতে এই ফারাক্কা চলো শ্লোগানে একটি নাটক করেছিলেন মাত্র।
কারণ এসব কথিত আন্দোলনকে ভারত সরকার কোন পাত্তাই দেয়নি। ভারতের সঙ্গে গঙ্গা বা পদ্মার পানি চুক্তির মাধ্যমে ঠিকভাবে পানি আনার ব্যবস্থা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে বিভিন্ন সরকার মানে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার কিছুই করতে পারেনি। এসব সরকারতো আন্তর্জাতিক আদালতেও মামলা করার হুমকি দিয়েছিলো কিন্তু তার কিছুই করতে পারেনি ভারতের সঙ্গে।
কিন্তু শেখ হাসিনা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যোগসূত্রে পানি আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।
ভাসানীর কথা যখন উঠলোই তখন এই ‘মজলুম জননেতা ‘ মাওলানা ভাসানীর আসল চরিত্র একটু তুলে ধরি।
তিনি আসলে মজলুম জননেতা একটি উপাধি বাগিয়ে নিয়েছিলেন মাত্র। কিন্তু তার এই ভারত বিরোধীতা ও ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে আন্দোলন “ না পাওয়ার বেদনা” থেকে। না পাওয়ার বেদনা বলছি এজন্য যে, ১৯৭১ সালেই এই অতি বাংলাদেশ প্রেমিক মাওলানা ভাসানী আসামে ৫ একর জমি ও সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার আকুল আকুতি জানিয়েছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে।
অবাক হওয়ার কিছু নেই এতে। এটিই সত্য।
১৯৭১ সালের অক্টোবরের ৩ তারিখ মাওলানা ভাসানী ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর কাছে আসামের ধুবড়ীতে ৫ একর জমি চেয়ে একটি পত্র লেখেন। চিঠিটি তিনি লিখেন ভারতের দেরাদুন ক্যাম্প থেকে।

তিনি সেই চিঠিতে উল্লেখ করেন যে, তিনি ভারতের সাথে বাংলাদেশের একটি কনফেডারেশন চেয়ে আজীবন সংগ্রাম করে যাবেন এবং আর কখনো ভারতের অবাধ্য হবেন না কিংবা ভারতের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলবেন না বলে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন।
ইন্দিরা গান্ধী এই চিঠিটির জবাব দেননি কিংবা হতে পারে যে প্রয়োজন মনে করেননি। চিঠিটি ইন্দিরা গান্ধীকে ইংরেজীতে অনুবাদ করে পাঠানো হয়। আসামে ৫ একর জমি না দেয়াতে এবং স্বাধীন বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনের কাছে ৪০ হাজার টাকা চেয়ে না পাওয়ায় তিনি পরবর্তী ভারতের ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ করেন। আসলে এই ছিলেন আমাদের “মজলুম জননেতা” মাওলানা ভাসানী !
তাহলে মাওলানা ভাসানী কি ভারত বিরোধী ছিলেন না ভারতের কাছে আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন তা আপনারাই বিশ্লেষণ করুন।
তো এই যে ডার্বি নাসির ক্রমাগতভাবে কারনে অকারনে ভারত বিরোধীতা, প্রচন্ড উষ্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে তার পেছনেও আবার ওই ভাসানীর মত উদ্দেশ্য কাজ করছে কিনা তাই বা কে নিশ্চিত করবে?

এরই মধ্যে দেখলাম ও শুনলাম যে এই ডার্বি হুমকি দিয়েছে ভারতের আসাম, মেঘালয় পশ্চিমবঙ্গও দখল করে নেয়ার। কেমন অপরিণামদর্শী বক্তব্য ও কর্মকান্ড বুঝুন এবার। নাকি এই ডার্বি নাসিরও মাওলানা ভাসানীর মত ভারত থেকে বড় অংকের সুবিধে নেয়ার জঘন্য এতসব উল্টোপাল্টা ও উষ্কানিমূলক কথাবার্তা বলছে?
সম্প্রতি কাঁটাতারের বেড়া, পুশ ইন-পুশ ব্যাক এসব নিয়ে বিএনপি-জামায়াতও নানামুখী বক্তব্য দিচ্ছে। ভারত তার সীমান্ত, তার জনপদ নিরাপত্তা বিধানের জন্য কাঁটাতারের বেড়া দেবে এতেতো দোষের কিছু দেখিনা।

বাংলাদেশও দিক তার সীমান্ত নিরাপত্তায়। কে বারণ করেছে তাতে? নাকি কাঁটাতারের বেড়া তৈরী হয়ে গেলে আর ভারতে অবৈধভাবে বাংলাদেশী ইসলামী জঙ্গিদের পাঠানো যাবেনা? অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদ সেভেন সিস্টার্সের বিদ্রোহী-বিচ্ছিন্নতাবাদিদের কাছে পাঠানো যাবেনা?
চোরাচালানীদের অসুবিধে হবে, গরুচোরদের অসুবিধে হবে? শিশু-নারী পাচার অসুবিধে হবে? সেজন্যই কি এই কাঁটাতারের বেড়ায় এত চরম বিরোধিতা?
কিন্তু মুখে বুলি হচ্ছে- সীমান্ত , স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা!
এবারের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইলেকশন নামের সিলেকশনে ভারত সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জেলাগুলোতে জামায়াতে ইসলামী সংসদীয় আসন দখল করেছে পরিকল্পিতভাবে। অনেক আগে থেকেই সেখানে এদের আধিপত্য ছিল।
তবে তা অনেকটা আধা গোপন-আধা প্রকাশ্যে! বুঝুন এবার এই “আধা” কেন ? এর মানে হলো তখন ( আওয়ামীলীগ আমলে) সীমান্তবর্তী এলাকায় জামায়াতীরা আওয়ামীলীগকে ব্যাপক ভাগবাটোয়ারা-সুযোগ সুবিধা দিয়ে বশ করে রাখতো।
যেটি ছিল ওপেন সিক্রেট ।
আর এবার আওয়ামীলীগের অনুপস্থিতিতে জামায়াত পুরো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে । এখনও দেদারসে চলছে জামায়াতের নানাবিধ অবৈধ বাণিজ্য। চোরাচালন, নারী-শিশু পাচার, আদম পাচার, ইসলামী জঙ্গী সাপ্লাই, সোনা পাচার, অস্ত্র-গোলাবারুদসহ হেন কোন বিষয় নেই যা এরা সীমান্ত দিয়ে পাচার করছেনা। কিন্তু মুখে ভারত বিরোধিতা আর কাঁটাতারের বিরোধিতা।
অতিসম্প্রতি দিল্লীতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠকেও এই পুশ-ইন, পুশ ব্যাক ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে চরম মতপার্থক্য তৈরি হয়, যার ফলে প্রথাগত যৌথ সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করতে হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি বর্তমানে সীমান্তে ড্রোন নজরদারি ও থার্মাল ইমেজার ব্যবহার করে টহল জোরদার করেছে এবং বাংলাদেশ সরকারও নিজস্ব সুরক্ষায় দেশের স্পর্শকাতর সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।
যা বুধবার (১৭ জুন) আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন– মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ভারতের সাথে সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে। তারমানে বাংলাদেশও বুঝতে পেরেছে এই কাঁটাতারের বেড়ায় বাংলাদেশও সুরক্ষিত থাকবে।
ওদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া শেষ করার জন্য প্রথম দফায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মে ২০২৬-এ ক্ষমতায় আসার পরই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
ভারতের মোট ৪,০৯৬ কিলোমিটার বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অংশ রয়েছে প্রায় ২,২১৭ কিলোমিটার, যার মধ্যে প্রায় ৫৬৩ কিলোমিটার এলাকা এখনো কাঁটাতারের বেড়াবিহীন।
দীর্ঘদিনের এই অসম্পূর্ণ বেড়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকার ৪৫ দিনের মধ্যে ৬০০ একর জমি বিএসএফ-এর কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন যে, মমতার তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সরকার “ভোটব্যাংক ও তোষণ নীতি”র কারণে এতদিন বিএসএফ-কে কাঁটাতারের বেড়া এবং বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেয়নি, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় অন্তরায় ছিল।
তিনি ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কড়া নীতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্তৃক ধৃত যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা নথিপত্রহীন ব্যক্তিকে এখন থেকে সরাসরি বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং তাদের প্রত্যাবাসন (Deportation) নিশ্চিত করা হবে।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যারা ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) আওতায় পড়বেন না, তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে বাংলাদেশ ও ভারতের উভয় পক্ষকেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে চলা জরুরী।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সম্প্রতি ভারতের কাঁটাতার নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্ত কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার জবাবে তিনি সরাসরি গণমাধ্যমকে বলেন, “বাংলাদেশ আর আগের বাংলাদেশ নেই এবং কাঁটাতারের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশকে ডরানো বা নতজানু করা যাবে না।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলের মতো সীমান্তে নির্বিচারে বাংলাদেশি হত্যা এবং পুশ-ইন এখন আর বাংলাদেশ মুখ বুজে সহ্য করবে না। কিন্তু আমরা শুধু বুলিই শুনছি, কাজের কাজ কিছুই করতে পারছেনা।
শুধু হম্বিতম্বি না করে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণভাবে ভারতের সাথে ন্যায্য সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে পারে। তা যদি না হয় তাহলে বাংলাদেশ নিজস্ব সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে ভারতকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে অর্থাৎ বাংলাদেশের যৌক্তিক প্রস্তাব মানতে বাধ্য করার কৌশল নিতে পারে।
কিন্তু যার নুন আনতে পান্তা ফুরায় তার পক্ষে প্রতিবেশীর সঙ্গে শত্রুতার চাইতে বন্ধুত্বই উপযুক্ত সমাধান হতে পারে।
# ইশরাত জাহান: লেখক, প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার সংগঠক।
