ঢাকা: ভারতের প্রখ্যাত গায়িকা অলকা ইয়াগনিক পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। পদ্মভূষণ হলো ভারতের প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা।

সম্প্রতি ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন গায়িকা অলকা ইয়াগনিক।

তবে সবচেয়ে দুঃখজনক হলো তিনি খুব অসুস্থ। এই বিশেষ সম্মান গ্রহণের মুহূর্তগুলি তিনি সামাজিক মাধ্যমে অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

তবে এত খুশির মাঝেও দুঃখ আছে। শিল্পী একটি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গত দু’বছর ধরে চলছে তাঁর গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা।

৬০ বছর বয়সি এই শিল্পী জানান, একটি ভাইরাল সংক্রমণের পর তিনি বিরল ধরনের ‘সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস’ (Sensorineural Hearing Loss বা SNHL)-এ আক্রান্ত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস মূলত কানের অভ্যন্তরীণ অংশ ‘ককলিয়া’ এবং শ্রবণ স্নায়ুর সমস্যার কারণে হয়। এই শ্রবণ স্নায়ুই শব্দের সঙ্কেত আমাদের মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়।

বয়সজনিত পরিবর্তন, হাই ডেসিবেল শব্দের মধ্যে থাকলে, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অটোইমিউন রোগ এবং অভ্যন্তরীণ কানে রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা এই রোগের কারণ হতে পারে।

মূল সমস্যাটাই হচ্ছে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া।

এছাড়াও কানে অনবরত একটা শব্দ বা ভোঁ-ভোঁ আওয়াজ শোনা যায়।

ভিড় বা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া।

অলকা ইয়াগনিকের এই সমস্যার জন্য থমকে গিয়েছে তাঁর কণ্ঠ।

সম্প্রতি পদ্মসম্মানের অনুষ্ঠানে তাঁকে অসুস্থ দেখে মন খারাপ হয়ে যায় অনুরাগীদের।

অনুষ্ঠানের পরে তাঁকে হুইলচেয়ারে বসে থাকতে দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনুরাগীরা। এখন শারীরিক অবস্থা কেমন, তা নিজেই বিবৃতি প্রকাশ করে জানান অলকা।

মঙ্গলবার পদ্মসম্মানে ভূষিত হন অলকা।

বৃহস্পতিবার গায়িকা তাঁর বিবৃতিতে অনুরাগীদের প্রথমেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি লিখেছেন, “অনুষ্ঠানের ভিডিয়ো থেকে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে, তা আমি দেখেছি। তাঁদের সকলকে জানাতে চাই, আমি এখন ঠিক আছি এবং ক্রমশ সুস্থতার দিকে এগোচ্ছি। আসলে পদ্মসম্মানের অনুষ্ঠানে দীর্ঘ ক্ষণ থাকার পরে আমি ক্লান্ত বোধ করছিলাম। তাই বেরোনোর সময়ে একটা হুইলচেয়ারের অনুরোধ জানিয়েছিলাম।”

তবে তিনি জানান, “এখন যথেষ্ট সুস্থ বোধ করছি। সকলের প্রার্থনার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।”

পদ্মসম্মান পেয়ে ভারত সরকারের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন অলকা। তিনি লিখেছেন, “মাননীয় রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সমগ্র ভারত সরকারের প্রতি আমার অশেষ ধন্যবাদ। চলুন, এই আনন্দের মুহূর্ত সকলে মিলে উদ্‌যাপন করি।”

এত অসুস্থতার মধ্যেও তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রণাম করতে ভোলেননি। আসলে একজন শিল্পী যে কত মর্যাদাসম্পন্ন হতে পারেন, তা এঁদের আচার আচরণেই বোঝা যায়। এক একজন শিল্পীর মান মর্যাদা কোনো কিছু দিয়ে মাপা যায় না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *