ঢাকা: যার যার ধর্ম তার সেটা পালন করার অবশ্যই অধিকার আছে। তবে হিন্দুরা এই দেশে বরাবর নির্যাতিত। এই ঘটনা তো নতুন নয়। তারা চেষ্টা করেন মিলে থাকার, অথচ এই দেশের কট্টরপন্থীরা তা হতে দেয় না।
তারেক রহমানের সরকারও মৌলবাদীদের হুমকিতে মাথা নত করল।
রংপুর ডিভিশনের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামে বিশ্বের বৃহত্তম রাম মূর্তি তৈরির কাজ স্থগিত হয়ে গেল।
এই রাম মূর্তি তৈরির কাজ শুরু করেছিল শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির কর্তৃপক্ষ।
প্রায় ২২ কোটি টাকা খরচ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক বৃহৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। ৮১ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তির পাশাপাশি প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণ মূর্তি এবং ৩০ ফুট উচ্চতার শিব মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয়।
কিন্তু হিন্দুদের আরাধ্য দেবতাদের চরম অপমান করে, জুতা মেরে আসলে মুসলমানরা নিজেদের সহিংসতাই প্রমাণ করলো।
সংখ্যালঘুদের নিজস্ব ধর্মের দেবতাদের মূর্তি তৈরির বিরুদ্ধে পথে নামে মৌলবাদীরা।
এর বিরুদ্ধে সজোরে কথা বললেন মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
১০০ না ৩০০ ফুট মন্ত্রী মূর্তি বানাক আমি মুসলমান আমার কি আইলো গেল- মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে বাজেট বক্তৃতায় ফজলুর রহমান পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিলেন দেশে হিন্দু মুসলমানের অধিকার সমান। তিনি বলেন, ‘১০০ না ৩০০ ফুট মন্ত্রী মূর্তি বানাক আমি মুসলমান আমার কি আইলো গেল। আমি তো ওটার দিকে তাকাই না। আমি প্রয়োজনে ২৫ তলা মসজিদ করবো। ওর মন্দিরে করবে পূজা, আমি মসজিদে নামাজ পড়ব অসুবিধা কি’।
তিনি জানান, ‘রাম মন্দির চাইনা, ‘মালাউনরা দেশ ছেড়া চলে যাও, হিন্দুরা চলে যাও, মিছিল করতেছে। তাদের পোশাকটা দেখলেই বুঝি তারা কারা। সেই পোশাকী লোকজনের সংখ্যা এখন বেড়ে গেছে। এমন বাড়ছে যে তারা পৃথিবীর কোন সভ্যতা সংস্কৃতি কিছুই শুনতে চায় না। কোন কথা শুনতে চায় না ধর্মকে নিয়ে, শুধু ব্যবসা করতে চায়। তারা হলো ধর্ম ব্যবসায়ী। সেইসব লোকজন আজকে ওখানে যাচ্ছে মারামারি করছে’।
সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যদি মনে করেন মন্দির ওখানে করা ঠিক না বা রাম মূর্তি করা ঠিক না বন্ধ করে দেন। একদম কঠিনভাবে যে, এদেশে কোন মন্দির বা মূর্তি করা যাবে না’।
ফজলুর রহমান বলেন, ভাত এবং তরকারির যেমন সম্পর্ক; শিক্ষা এবং সংস্কৃতির ঠিক তেমন সম্পর্ক। শিক্ষা বাজেট অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু সংস্কৃতির বাজেট খুব বেশি পরিপূরক হয়েছে বলে মনে হয় না। একটাকে অনাহারে রেখে আরেকটা খুব সুন্দরভাবে চলতে পারে না। কারণ, শিক্ষার সঙ্গে যদি সংস্কৃতির সঠিক মিলন না হয় তাহলে এখানে সভ্যতা গড়ে উঠবে না।
