আমেরিকান ‘ডিপষ্টেট’ ও তাদের আজ্ঞাবহ নো-বেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনুস বাংলাদেশকে সর্বনাশের এমন চূড়ান্ত জায়গায় নিক্ষেপ করেছে যেখান থেকে বাংলাদেশ আর নিজস্ব স্বকীয়তায় দাঁড়াতে পারবেনা।যদি না সেই একাত্তরের মত আরেকটি দেশপ্রেমিক বিপ্লবী গণজোয়ার না আসে।

নিদেনপক্ষে যদি একাত্তরের ঘাতক দালালদের বিচার ও ফাঁসির দাবিতে যে জনজাগরণমঞ্চের সৃষ্টি হয়েছিল তেমন তীব্র জনজাগরণ সৃষ্টি না হয়।

কারণ ক্ষমতালোভী ইউনুস ও তার অনুগত ইসলামী জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী এমনভাবেই বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধ্বংস করে গেছে।

এবছর ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ইলেকশনের নামে যে সিলেকশন হয়ে গেলো তার মাত্র তিনদিন আগেই মানে ৯ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সঙ্গে দাসখতের চুক্তি করে গেছে ইউনুস।

সেই চুক্তি থেকে কোনোভাবে বাংলাদেশের পক্ষে সরে আসা আদৌ সম্ভব কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কারণ বিএনপির এখনকার যে সরকার রয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সে সরকারতো অনেকটা পুতুল সরকারই বলা চলে।

শুধু সংসদে দুই তৃতীয়াংশ আসনের বেশি সংসদ সদস্য থাকলেই যে এটি শক্তিশালী সরকার, তা কিন্তু নয়। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী সে ঠিক আছে, কিন্তু তিনি কি আমেরিকার চুক্তিকে অস্বীকার করতে পারবেন?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে- আমেরিকার ইচ্ছেমতো না চললে সে সরকার ও রাজনৈতিক দলকে আমেরিকা তার নীলনকশা অনুয়ায়ী কোন না কোনভাবে শেষ করবেই। যেমনটি করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

তারপর শুধুমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার যে কয়টি মেয়াদে ক্ষমতায় ছিল শুধু সে কয়টি বছর আমেরিকান বলয়ের বাইরে ছিল। জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও বেগম খালেদা জিয়ার সরকারগুলো কখনোই আমেরিকার কথার বাইরে গিয়ে কোন কাজ করার সাহস পায়নি।

অবশ্য তাদের সাহস থাকার কথাও নয়।এই তিনটি শাসনামলে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা কেউ কি সত্যিকারভাবে দেশপ্রেমিক কোন সরকার ছিলেন? জিয়াউর রহমান সামরিক পোশাক পরেই সেনাছাউনিতে বসে রাজনৈতিক দল বিএনপি গঠন করেছেন।

জেনারেল এরশাদও সেই সামরিক ছাউনিতে বসে জাতীয় পার্টি তৈরি করেছেন। আর জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিএনপিকে আওয়ামীলীগের প্যারালাল দল ও ক্ষমতার রাজনীতি করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য ইসলামী দলগুলোকে কোলে টেনে নিয়েছিলেন।

এই যে তিনটি শাসনামলের কথা বললাম এরা কেউই আমেরিকার কথার বাইরে গিয়ে কোন কাজ করেননি।

তবে এদের একটি জায়গায় খুব ঐক্য ছিল। তাহলো- ভারত বিরোধীতা ও ইসলামী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে শক্তিশালী করা। তারা জানতো বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং এখানে ‘ইসলামের বটিকা’ বেশ ভালো চলবে। সেজন্য প্রয়োজন ভারত বিরোধীতা ও হিন্দু বিরোধীতা।

এর পেছনে স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ও আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বেশ আঁটঘাট বেঁধেই নেমেছিল বাংলাদেশের মুসলিম জনমানসে ভারত বিরোধীতা ঢুকিয়ে দিতে।

১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পেছনেও এই রাজনৈতিক অপশক্তির নীলনকশা বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে।
আমেরিকা ভূ-রাজনৈতিকভাবে এশিয়ার এই অঞ্চলে তার সামরিক প্রভাব বিস্তারের জন্য বাংলাদেশকেই বেছে নিয়েছিল।

আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও নানা প্রলোভন দেখানো হয়েছিল আজীবন ক্ষমতায় থাকার। তবে তার বিনিময়ে আমেরিকাকে বাংলাদেশে তাদের সামরিক ঘাঁটি করার অনুমতি দিতে হবে- এটাই ছিল তাদের মূল শর্ত।

কিন্তু শেখ হাসিনা তাদের সেই শর্ত মানেননি তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মত।ফলে আমেরিকা শেখ হাসিনার সরকার ও আওয়ামীলীগকে ধরাশায়ী ও ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য নানা ফন্দি ফিকির খুঁজতে থাকে। সে অনুযায়ী তারা সফলও হয়।

আমেরিকা শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বেছে নিয়েছিল নো-বেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে। তাকে সামনে রেখে সামরিক-বেসামরিক আমলা, সংস্কৃতিসেবী, মিডিয়া, ছাত্রসংগঠনসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকে সম্পৃক্ত করে। আর তা শুরু করেছিল কথিত ছাত্র আন্দোলনের নামে।

আর তাও করেছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের মত একটি যুক্তি দেখিয়ে।তাদের টার্গেট ছিল মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা।

কারণ মুক্তিযুদ্ধ ও এর চেতনাকে যদি প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় তাহলে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে অনেক সহায়ক হবে। এজন্য তারা রাজনৈতিকভাবে ডান-বাম-মধ্যপন্থী-চরম ইসলামী জঙ্গীগোষ্ঠীসহ সবাইকে বিপুল পরিমাণ ডলারের বিনিময়ে আসলে কিনে নেয়।

বাংলাদেশের রাজনীতি যে কেনাবেচার মধ্যে চলে তা তো আর নতুন কিছু নয়।সামরিক বাহিনীকে নানা প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে আগেই কেনা হয়ে গিয়েছিল আমেরিকার।

আর এই সশস্ত্র বাহিনীতে বেশ কয়েকবছর ধরেই জামায়াত, হিযবুত তাহরিসহ বিভিন্ন ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল।

ফলে ছাত্রদের কথিত ছাত্রগণআন্দোলন বা গণ অভ্যুত্থান মূলত ছিল একটি ইসলামী জঙ্গী-সামরিক অভ্যুত্থান।

যার নেপথ্যে নেতৃত্ব দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী ও সেনাবাহিনী।পরে তারা প্রকাশ্যে চলে আসে চব্বিশের আগষ্টের প্রথমদিকে। সে ইতিহাস সবাই জানেন।

এই যে ১২ ফেব্রুয়ারির ইলেকশনের নামে সিলেকশন হলো সেটিও বেশ পরিকল্পিত।ইউনুস সরকারের নেতৃত্বাধীন কথিত ইন্টেরিম সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই ২০২৬ এর ৯ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা বাংলাদেশকে একটি দাসখতের চুক্তি করতে বাধ্য করে।

যে চুক্তির কারণে বাংলাদেশ মূলত আমেরিকার দাসত্ব স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়।আর ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলেও সেই চুক্তি বাতিল করা তার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

তাই সেই যে একটি প্রবাদ আছে-‘স্বাধীনতা পাওয়ার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন’। সেটি বাংলাদেশের জন্য দুঃখজনক হলেও কঠিন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক চুক্তির মত চুক্তি মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্র করেছে।

তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কাঠামোটি ঐ দুই দেশের চাইতে অনেক বেশি কঠোর । ইতিমধ্যে বিভিন্ন জনের আলোচনা ও চুক্তির কিছু বিষয় পড়ে যতটুকু দেখা গেছে তাতে তাই মনে হলো।

এ চুক্তির নাম দেয়া হয়েছে United States–Bangladesh Agreement on Reciprocal Trade.” বা পারস্পরিক বাণিজ্য বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ চুক্তি। এর বাস্তবায়ন শুরুর সময় বলা হয়েছে- উভয় দেশে অভ্যন্তরীণ অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পর এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিফিকেশন বিনিময়ের ৬০ দিন পর — যা স্বাক্ষরের পর কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পরও হতে পারে। কিন্তু বিমান কেনার চুক্তি হওয়ার পর মনে হচ্ছে চুক্তিটি কার্যকর হতে যাচ্ছে।

চুক্তির মূল উদ্বেগের জায়গাগুলো কি?

ধারা ৩: ডিজিটাল বাণিজ্য। মূল কথা (অনুচ্ছেদ ৩.১–৩.৩): মার্কিন ডিজিটাল সেবার ওপর কোনো ধরনের শুল্ক আরোপ করা যাবে না।

ধারা ৪: অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা।“সার্বভৌমত্ব” বিপন্ন যেখানে ।

অনুচ্ছেদ ৪.১ ও ৪.২: বাংলাদেশ যদি এমন কোনো দেশের কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করে, যারা “বাজারমূল্যের নিচে” পণ্য বিক্রি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে বাংলাদেশকে তা মেনে চলতে হবে এবং সে অনুযায়ী রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে হবে।

এর সম্ভাব্য প্রভাব: বাংলাদেশ চীন বা অন্যান্য দেশ থেকে তুলনামূলক সস্তা কাঁচামাল বা পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে যেতে পারে, ফলে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য অংশীদার বেছে নেওয়ার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

অনুচ্ছেদ ৪.৩: পারমাণবিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা: বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি বা জ্বালানি কিনতে পারবে না, যারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করে

সম্ভাব্য প্রভাব: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা ভবিষ্যতের কোনো প্রকল্পে রাশিয়ার সহায়তা অসম্ভব হয়ে যেতে পারে। এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ধারা ৫: বাধ্যতামূলক ক্রয়: এই ধারা অনেকটা “জিম্মির মতো” বাধ্যবাধকতার ইঙ্গিত দেয়, কারণ এখানে কী কী কিনতে হবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৫.১ ও ৫.২: যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ খাতে অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে হবে।

অনুচ্ছেদ ৫.৩ (বস্ত্র খাত): বাংলাদেশ তখনই পোশাক খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ তুলা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে।

অনুচ্ছেদ ৫.৪ ও সংযুক্তি-৩ (ক্রয়): বাংলাদেশকে নিম্নলিখিত পণ্য কেনার চেষ্টা করতে হবে। যেমন-বিমান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ১৪টি বোয়িং বিমান কিনতে হবে।

জ্বালানির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে- ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন এলএনজি কিনতে হবে।

কৃষিপণ্য: প্রতিবছর ৭ লাখ টন গম, ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করতে হবে।

এসবের সম্ভাব্য প্রভাব: এটি মুক্ত বাণিজ্যের চেয়ে আরোপিত ক্রয়-বাধ্যবাধকতার মতো বেশি মনে হয়। বাংলাদেশের প্রকৃত প্রয়োজন বা সক্ষমতা যাই হোক না কেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর মুনাফা কার্যত নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ধারা ৬: বাস্তবায়ন , অনুচ্ছেদ ৬.৪ এ বলা হয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে বাংলাদেশ কোনো শর্ত মানছে না, তাহলে তারা আগের মতো উচ্চ শুল্ক পুনরায় আরোপ করতে পারবে।

এসবের প্রভাব কি হতে পারে? চুক্তির মূল নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে। কার্যত তারা বিচারক ও কার্যকরকারী—দুই ভূমিকাই পালন করবে।

WTO র কোনো ভূমিকা নেই। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ নির্দিষ্ট পরিমাণ মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম কেনার বিষয়েও সম্মত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ওপর মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ার প্রচুর আশংকা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তেমন কোন আলোচনা হয়েছে বলে অন্তত আমার জানা নেই। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কোন আলোচনাই হলো না।

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি বিষয়টি সংসদে তোলার চেষ্টা করেছেন, কিছুটা বলেছেনও কিন্তু তাকে সেটা করতে দেয়া হলোনা।

রুমিন ফারহানা বলছেন , কোন বিদেশি চুক্তির ক্ষেত্রে যদি তা গোপন না হয় (আর্টিকেল ১৪৫-এ অনুযায়ী) তা সংসদে আলোচনা করতে হয়। কিন্তু সংবিধানের এই ধারাটি অনুসরণ করা হয়নি।

সংসদে আলোচনার জন্য স্পিকারকে ৬৮ ধারা মোতাবেক চুক্তির রিভিউ নোটিশ দিতে হলে অন্তত ৫ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর লাগে।

কিন্তু রুমিন ফারহানা বলছেন, ৫ জন সংসদ সদস্য তো দূরের কথা তিনি তাঁর বাইরে একজন সদস্যও জোগাড় করতে পারেননি যে, স্পিকারকে চিঠি দিয়ে এই চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করবেন।

তিনি বলেছেন-এই সংসদে, ক্যাবিনেটে আমার অনেক পরিচিতজন আছেন, যাদের ব্যক্তিগতভাবে চিনি ও জানি। কিন্তু তাদের বাদ দিয়ে আমার একজনের কথাই খুব মনে হয়েছে সে হচ্ছে ছাত্র আন্দোলনের সহকর্মী জুনায়েদ সাকি।

তিনি একসময় প্রচন্ড সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছিলেন ও বিপ্লবী রাজনীতি করতেন। তিনিও এই চুক্তি নিয়ে একটি কথাও বললেন না !? রুমিন ফারহানা চেয়েও, চেষ্টা করেও সংসদে আলাপ করতে পারলেন না।

তবে তারেক রহমানের চীন সফরের সময় চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনার যে প্রক্রিয়ার কথা শোনা যাচ্ছে সে ব্যাপারে আমেরিকার সম্মতি আছে কিনা সেটি এখনো জানা যায়নি। তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। তারমানে কি দাঁড়ালো? এই দাসত্বের চুক্তি নিয়ে কোন কথা বলা যাবেনা।

এইযে ড. ইউনুসকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি দাসখতের চুক্তি করিয়ে নিলো তাতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এমনকি সংসদেও আলোচনা করা যাচ্ছেনা।

আর ইউনুস তো ক্ষমতায় এসেই বাংলাদেশে ইসলামী সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে তার পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেললেন।

তাদেরকে দিয়ে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার, খুন, মন্দির ধ্বংস, হামলা, প্রকাশ্যে পুড়িয়ে মারা, দেশত্যাগে বাধ্য করা ইত্যাদি অবলীলায় করতে দিলেন। দিলেন মানে করালেন।এর পাশাপাশি ইউনুস নিজেও ভারতকে হুমকি দিলেন বারংবার এই বলে যে, ভারতের সেভেন সিস্টার্স প্রদেশগুলো ল্যান্ডলক।সেসব দেশের উন্নয়নে তাদেরকে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হওয়ারও উস্কানি দিলেন।

আর এ কাজে তিনি ব্যবহার করলেন- একসময়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যা পরে এনসিপি নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। যদিও এটি মূলত জামায়াতে ইসলামীর বিটিম বা বাই প্রোডাক্ট হিসেবেই পরিচিত। এসব ইসলামী দল মিলে ১১ দলীয় ইসলামী জোট গঠন করেছে।

বিএনপি সরকার নাকি রংধনু সমাজ-রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। তারমানে তাদের ভাষায় ‘জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার থাকবে বাংলাদেশ্’।

সেটিই নাকি রংধনু সমাজ বা রাষ্ট্র। কিন্তু আমরা কি দেখতে পাই সেই রংধনু সমাজে? প্রতিনিয়ত হিন্দুদের ওপর আক্রমণ, খুন,ধর্ম অবমাননার নামে হিন্দুদের ওপর নির্মমভাবে হামলা, খুন, মামলা, নির্যাতন।এটিই কি রংধনু সমাজ ও রাষ্ট্র বিএনপির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত?

গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণসহ সেখানে হিন্দুদের বিভিন্ন দেবতা-অবতারের বড় প্রতিমা নির্মাণের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত তা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি।

যে কোনদিন সেখানে আক্রমণ করে ধুলায় মিশিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে মিছিল। রামের প্রতিকৃতিতে জুতা মারা, লাথি দিয়ে অপমান করা। আবার এসবের প্রতিবাদ করতে গেলেও পুলিশের বাধা। হয়রানি, মিথ্যা মামলার হুমকি।

অথচ গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে যে মন্দির কমপ্লেক্সে এসব প্রতিমা বা মূর্তি তৈরী করা হচ্ছে তা মন্দিরের নিজস্ব জায়গাতে। এই যে রামের প্রতিকৃতিতে জুতা-লাথি মারা তাতে কি ধর্মীয় অবমাননা হয়না? নাকি অবমাননা শুধু ইসলাম ধর্মের বেলায় হয়?

প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে-হিন্দুদের এদেশে কোন জায়গা হবেনা। হিন্দুদেরকে কতল করা হবে কোন কিছু বললে।হিন্দু নাম শুনলেই তাদেরকে ভারতের দালাল, র’ এর এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

তাছাড়া প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামী জঙ্গীদের পতাকা সম্বলিত বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে শো-ডাউন দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেখানে কোন বাধা নেই। কারণ বোধ হয় একটাই- বাংলাদেশ একটি ইসলামী রাষ্ট্র।

যদিও সরকারিভাবে এখনো ইসলামী রাষ্ট্র ঘোষণা দেয়া হয়নি। কিন্তু সরকার ও রাষ্ট্রের আচার আচরণে বোঝানো হচ্ছে এটি ইসলামী বাংলাদেশ।

২০২৪ সালে চট্টগ্রামের বিপনী বিতান এলাকায় একটি জাতীয় পতাকার সমান্তরালে গৈরিক রঙের পতাকা উত্তোলন নিয়ে সংসারত্যাগী সাধু চিন্ময় দাস বা চিন্ময় সাধুসহ আরো কয়েকজন হিন্দু নাগরিককে গ্রেপ্তার, নানামুখী হয়রানী করা হচ্ছে।

এখনো চিন্ময়ের জামিন হয়নি।রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছিল সেই পতাকা উত্তোলন নিয়ে। কিন্তু এর মধ্যে যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপরে কলেমা লেখা পতাকা ও বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পতাকা ওড়ানো হচ্ছে তাতে কোন রাষ্ট্রদ্রোহ হয়নি ?

কে দেবে তার জবাব? আর কে করবে সেই প্রশ্ন? কারণ এ দেশে কার ঘাড়ে কয়টা মাথা?

#রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *