ঢাকা: ঢাকার কাঁটাবনে একটি ১৪ তলা আবাসিক ভবনের ১২ তলার দুটি ফ্ল্যাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
তবে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের যে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা চোখে পড়েছে, তা এককথায় ভীষণ উদ্বেগজনক।
ভবনের ভেতরে পানি তোলার পাইপগুলো লিক হয়ে পানি পড়ছিল। ফলে ১২ তলা পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাচ্ছিলই না।
এত বড় একটি ভবনে আগুনের জন্য যেখানে অন্তত ৪টি ইউনিটের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন ছিল, সেখানে প্রথমে এসেছিল মাত্র ১টি ইউনিট।
কিছুক্ষণ পর নিচে এসে দেখা গেল, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির মূল পাম্প মেশিনটিই ব্লাস্ট হয়ে গেছে! পানি দেওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপস্থিত জনতার মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে আরও ইউনিট এলেও, মূল উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আগুন লাগার প্রায় ২ ঘণ্টা পর!
মানে বেগতিক অবস্থা। ফায়ার সার্ভিসের মতো একটি জরুরি এবং তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানের যদি এই জরাজীর্ণ অবস্থা হয়,তাহলে আর কী বলবো?
সরকারের কোনো দিকেই নজর নেই।
অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। শুক্রবার ভোর রাত ৩টা ৮ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ভবনটি থেকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. জনি (২৫) ও মো. আব্দুস সালাম (১৯)।
ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক বলেন, আগুন লাগার পর দগ্ধ অবস্থায় ওই দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে জনিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এবং আব্দুস সালামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দুই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
