ঢাকা: একের পর এক শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেই যে আগস্টে ম্যাজিক শুরু হয়েছে, ২০২৪ সালের, সেই ম্যাজিক এখনো চলছে। এখন তো আবার প্ল্যান করে চলছে দেশ।

আসলে একটি পোশাক কারখানা বন্ধ মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং শত শত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়া।

সরকারের কাছে প্রশ্ন—কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে? শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে, বিনিয়োগ বাড়াতে এবং শ্রমিকদের চাকরি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?

কোথায় বাড়ছে কর্মসংস্থান? উল্টো কারখানা বন্ধ হচ্ছে, শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কয়েকটি বড় কারখানা বন্ধ হয়ে কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

এই বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী মাসগুলোতে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং কর্মসংস্থানের ওপর এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে খাত-সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (২৬ জুন) ডব্লিউডব্লিউডি-এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

জানা গিয়েছে, গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার ‘ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড’ আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

হঠাৎ করে এইভাবে এই দুটি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁরা কু কাজ করবেন এখন? পরিবার কীভাবে চলবে?

শ্রমিকদের অভিযোগ, পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। অনেকেই বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও হঠাৎ চাকরি হারিয়ে এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়েছেন।

পেটে ভাত না থাকলে, ছেলে মেয়ের পড়াশোনা না করাতে পারলে দেশটার কী গতি হবে ভেবে দেখেছে সরকার?

পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকটের পেছনে অনেক কারণ কাজ করছে বলে ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশের প্রবৃদ্ধি আগের মতো নেই। ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রফতানিতে।

এছাড়াও আরো বড় কারণ হচ্ছে, উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়, ডলার সংকট এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিরাট বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও অনেক কারখানা আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *