ঢাকা: জাহানারা ইমাম তো সেই জননী, যাঁর সন্তান রুমি দেশের জন্য শহিদ হয়েছেন। স্কলারশিপ প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধে যাওয়া, গেরিলা যুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করা- কি বাদ রেখেছেন? দেশের জন্য উৎসর্গীকৃত প্রাণ ছিলেন।
জাহানারা ইমাম নিজেও ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। নিজে মুক্তিযোদ্ধা তরুণদের অর্থ, খাবার দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।
জাহানারা ইমাম একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৯১ সালে গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ঘোষণার পর যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গঠিত গণ-আদালত আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে জাহানারার বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমী শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ *‘একাত্তরের দিনগুলি’* বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত।
পরিবারের আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘শহীদ জননী’ হিসেবে পরিচিত।
অথচ সেই জাহানারা ইমামকে ডাকা হয়েছে জাহান্নামের ইমাম বলে! ভাবতে পারেন?
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা, রাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহিদ জননীকে ‘ জাহান্নামের ইমাম ‘ আখ্যায়িত করেছেন। ধরণী সইবে?
শনিবার (২৭ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীকে ‘জাহান্নামের ইমামের মরণ দিবস’ বলে মন্তব্য করেছেন রাকসুর সাংস্কৃতিক–বিষয়ক সম্পাদক শয়তান জায়িদ হাসান।
জায়িদ হাসান পোস্টের ক্যাপশনে লেখেন, ‘জাহান্নামের ইমামের মরণ দিবস আজ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাস্তবায়ন করেছিল বিদেশি নকশা।’
একই পোস্টের ফটোকার্ডে লেখা ছিল, ‘শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিকে মূলধারায় আনতে গঠন করেছিলেন গণ-আদালত।’
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
অনেকেই এ মন্তব্যকে অশোভন আখ্যা দিয়ে জায়িদ হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাকসুর সাংস্কৃতিক–বিষয়ক সম্পাদক পদ স্থগিতের দাবি জানান।
সমালোচনার মুখে পরে আরেকটি পোস্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন জায়িদ হাসান। তিনি লেখেন, ‘আমি কোনো শহীদের মাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করিনি। বাংলাদেশে মব কালচারের গোড়াপত্তনকারী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলেছি। শহীদের মা পরিচয় কারও খুনি পরিচয় মুছে দিতে পারে না। লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার।’
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, রাকসুর সাংস্কৃতিক–বিষয়ক সম্পাদক শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধাপরাধবিরোধী অবস্থানের কারণেই জাহানারা ইমামকে লক্ষ্য করে এমন মন্তব্য করা হয়েছে এবং এর নিন্দা জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স ও হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান আমান ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন:
“রাবিতে যারা ছাত্ররাজনীতি করে তারা খুবই আনস্মার্ট। ক্যাম্পাসে এতক্ষণ প্রতিবাদমুখর হওয়া উচিত ছিল। রাকসুর অপসংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবিতে রাকসুর সভাপতিকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত। তারা বাংলাদেশে থেকে এদেশের ইতিহাস কটাক্ষ করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
