ঢাকা: বাংলাদেশ চলেছে সাংস্কৃতিক দেউলিয়াত্বের মধ্যে দিয়ে! জামাত শিবির রাজাকাররা কোনোদিনও যে মানুষ হতে পারবে না, তার প্রমাণ তারা নিজেরাই দিচ্ছে।
যে সমাজ তার ইতিহাসের মানুষদের সম্মান করতে শেখে না, সে সমাজ তো নিজেকেই অসম্মান করে। জাহানারা ইমামকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সাংস্কৃতিক দেউলিয়াত্বেরই পরিচয়।
জাহানারা ইমাম কী যেই সেই ব্যক্তি? তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি,ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা এবং জাতির সাংস্কৃতিক বিবেকের এক অনন্য প্রতীক।
তাঁকে বলা হয়েছে “জাহান্নামের ইমাম”।
রাজাকার আল বদরের বাচ্চারা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলে সম্বোধন করতো।
শহীদ জননী মৃত্যু বরণ করেছেন ২৬ জুন ১৯৯৪ সালে। এই শিবিরের শাবক তখন জন্মগ্রহণও করে নাই।
অথচ কি নির্মম পরিহাস- ২৭ জুন ২০২৬ সালে অর্থাৎ শহীদ জননীর মৃত্যুর ৩২ বছর পরে রাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদ জননীকে জাহান্নামের ইমাম বলে সম্বোধন করলো।
কে জাহান্নামে যাবে, কে জান্নাতে যাবে- তা মনে হয় এই রাজাকারের বাচ্চারাই ঠিক করে দিচ্ছে।
জামাত মুখে ধর্মের কথা বললেও অন্তরে এরা যুগের পর যুগ ধরে ঘৃণার চাষাবাদ করছে। সুতরাং এদের ধোকা থেকে সাবধান হোন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহার কী শাস্তির ব্যবস্থা করবে না সরকার? নাকি সব একই?
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ‘শহীদ জননী’ হিসেবে সম্মানিত জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বলে আখ্যায়িত করে পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়–সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেন জায়িদ হাসান জোহা। পোস্টটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস আজ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাস্তবায়ন করেছিল বিদেশি নকশা।’
পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জোহার এই পোস্টের কড়া সমালোচনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘রাকসুর অপসংস্কৃতি সম্পাদক জোহা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে “জাহান্নামের ইমাম” বলে ফতোয়া দিয়েছে। কারণ জাহানারা ইমামই প্রথম ওদের জাতির পিতা রাজাকারকূলের শিরোমণি গোলাম আজমকে গণআদালতে ফাঁসি দিয়েছিলেন। এটাই আমাদের গত ৫৫ বছরের রাজনৈতিক খেসারত যে জোহার মতো যুদ্ধাপরাধীর উত্তরসূরিরা দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, শহীদের মাকে নিয়ে বাজে কথা বলার সাহস পায়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান আমানও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি লেখেন, ‘রাবিতে যারা ছাত্ররাজনীতি করে তারা খুবই আনস্মার্ট। ক্যাম্পাসে এতক্ষণে প্রতিবাদমুখর হওয়া উচিত ছিল। রাকসুর অপসংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবিতে রাকসুর সভাপতিকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত। তারা দেশে থেকে এ দেশের ইতিহাস কটাক্ষ করবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
