ফরিদপুর: এখনো অজ্ঞতা রয়েই গেলো পরিবারগুলোতে। সাপে কামড় দিলে প্রথমেই হাসপাতালে নিতে হবে, পরিবারের লোকজনকে এটা বুঝতে হবে না যে সেই সাপ নির্বিষ নাকি বিষাক্ত!
চিকিৎসালয়ে গেলে ডাক্তাররাই চিকিৎসা করবেন। তাই ওঝার কাছে গিয়ে সময়টা নষ্ট না করে ডাক্তারের কাছে গিয়ে যত শীঘ্র সম্ভব এন্টি ভেনাম নেয়া উচিৎ।
আর তা না করার ফলেই মারা গেল এক কিশোর।
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সাপের কামড়ে রাফসান মোল্যা (১৬) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মারা গিয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে দুই ওঝার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করান।
সময় নষ্ট হতে থাকে এতে আর কিশোরের অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। তারপর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত রাফসান উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের অমৃতনগর গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী লিটন মোল্যার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে বাথরুমে যায় রাফসান। সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে একটি সাপ দংশন করে।
এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে পার্শ্ববর্তী ঘোষপুর ইউনিয়নের গোয়াইলবাড়ি এলাকার আক্কাচ মিনা নামে এক ওঝার কাছে নিয়ে যান।
সেখানে ঝাড়ফুঁক করা হয় কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে আবার পৌরসভার সোতাশী গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে বুলু ওঝার কাছে নেওয়া হয়। সেখানেও ঝাড়ফুঁক শেষে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
রবিবার (২৮ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে রাফসানের বুকে চাপ অনুভূত হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে সেখানে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
হয়তো সময়মতো হাসপাতালে নেয়া হলে তার প্রাণটা বেঁচে যেতো।
