ঢাকা: বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তফা মনোয়ার আর নেই। শোকসন্তপ্ত সারা দেশের সংস্কৃতিমনস্ক লোকেরা।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার যে এভাবে চলে যাবেন তা ভাবা যায়নি।

আজ সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

চিত্রশিল্পে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণা, বাংলাদেশে নতুন শিল্প আঙ্গিক পাপেটের বিকাশ, টেলিভিশন নাটকে অতুলনীয় কৃতিত্ব প্রদর্শন, শিল্পকলার উদার ও মহত্‍ শিক্ষক হিসেবে নিজেকে মেলে ধরা, দ্বিতীয় সাফ গেমসের মিশুক নির্মাণ এবং ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনের লালরঙের সূর্যের প্রতিরূপ স্থাপনাসহ শিল্পের নানা পরিকল্পনায় তিনি তাঁর সৃজনী এবং উদ্ভাবনী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

জানা গিয়েছে, নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৯ জুন) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

চিত্রশিল্প, মঞ্চনির্দেশনা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং বিশেষ করে আধুনিক পুতুলনাট্যের প্রসারে তাঁর অবদান অনন্য ও কালজয়ী।

শিশুদের মনস্তত্ত্ব ও সৃজনশীলতা বিকাশে তাঁর নির্মিত পুতুলনাট্যের চরিত্রগুলো কয়েক প্রজন্মের শৈশবকে আনন্দিত করেছে।

মুস্তাফা মনোয়ারের বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী এবং শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। রেখে গেছেন তাঁর আদর্শ।

জানা যায়, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার।

তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।

কয়েক দিন আগে তাঁর ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়ায় কিছুটা আশার আলো দেখা গিয়েছিলো। কিন্তু পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

উল্লেখযোগ্য যে, তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে তিনি দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

এবং শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *