ঢাকা: বাজেটে স্বপ্ন দেখানো হয়, অথচ ভুক্তভোগী তো সবশেষে হতেই হয় জনগণকে। সারা বছর তারা ভোগে। বাজেট দেয়া হয়, কিন্তু জনগণের সমস্যার সমাধান হয় না।

বাজেটে স্বপ্ন দেখলেও বছরজুড়ে জনগণকে স্বপ্নভঙ্গের খেসারত দিতে হয়। পরিষ্কার মন্তব্য করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

রুমিন ফারহানা স্পষ্টভাবে বরাবর তুলে ধরেন তাঁর বক্তব্য। মৌলবাদের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন, তাই তাঁকে তসলিমা নাসরিন বলে কটাক্ষ করে কট্টরপন্থীরা।

ফারহানা বলেন, প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার সময় সরকার নানা স্বপ্ন দেখালেও বছরজুড়ে সেই স্বপ্নভঙ্গের পরিণতি জনগণকে ভোগ করতে হয়।

সোমবার (২৯ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থবিলের সংশোধনীর উপরে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, আর আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

তবে শুধু ঘোষিত ঘাটতিই নয়, প্রতি বছরই রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, বাস্তবে তা অর্জন করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রকৃত ঘাটতি আরও বেড়ে যায় এবং দেশকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করতে হয়।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানতে চান, ওই সফরে চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না। যদি পেয়ে থাকে, তাহলে তার পরিমাণ কত এবং বাংলাদেশে নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না, সে বিষয়েও সরকারকে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরাসরি উত্তর না দিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমরা কি কেবলমাত্র চাইতে গেছি ভিক্ষার ঝুলি হাতে, না। এমনটি কেউ আশা করেন না। তবে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *