ঢাকা: চলে গেলেন খ্যাতিমান শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার। কবি গোলাম মোস্তফার ছেলে মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
বরেণ্য চিত্রশিল্পী, একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
সোমবার (২৯ জুন) শিল্পীর ছেলে সাদাত মনোয়ার বলেন, মঙ্গলবার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য লাশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। আজ লাশ বাসাতেই রাখা হবে। পরিবারের ইচ্ছা, বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন শিল্পীই ছিলেন না, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন শরণার্থীদের আশা ও সাহসের প্রতীক।
পাপেট শোর মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর অনন্য ভূমিকার কারণে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘পুতুলওয়ালা’ নামে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তান টেলিভিশনের চাকরি ছেড়ে কলকাতায় চলে যান মুস্তাফা মনোয়ার। সেখানে ব্যারাকপুরসহ বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে পাপেট শোর আয়োজন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের মধ্যে সাহস ও আশার সঞ্চার করেন।
তার পাপেটে অত্যাচারী পাকিস্তানি শাসক ইয়াহিয়া খানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীকী দৃশ্য তুলে ধরা হতো। এসব প্রদর্শনী শরণার্থীদের মনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সারা দেশের সংস্কৃতিমনস্ক মানুষেরা।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ও নিউমোনিয়ার জটিলতায় ভুগছিলেন।
১৪ জুন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
