ঢাকা: “পাকিস্তান ভেঙেছি, স্বাধীনতা এনেছি” – ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ পাওয়ার পর বললেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনু।

ট্রাইবুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড শুনে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ভয়কে জয় করার প্রত্যয় জানান বন্দী যোদ্ধারা।

নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে এই দণ্ড পেতে হতো না তাঁকে।

তবে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭৯ বছর বয়সে হাসিমুখে কারাদণ্ড গ্রহণ করলেন, তবু ক্ষমতার কাছে মাথা নত করেননি।

নিজেকে বিকিয়ে দেননি সাময়িক সুবিধার বিনিময়ে। বরং শিরদাঁড়া সোজা করে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন, যেভাবে দাঁড়িয়েছিলেন পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে।

হাসানুল হক ইনু শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা নন।বঙ্গবন্ধু জাতি রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে পকিস্তানের ২৩ বছরের শাসনকালে বাঙ্গালীর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে জাগিয়ে তোলা এবং পরিণতিতে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার লড়াইয়ে তিনি ছিলেন একজন বলিষ্ঠ, ভীতিহীন যোদ্ধা।

আজকে তারেক রহমানের আমলে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইবুনাল থেকে সাজা ঘোষণা করা হলো। যা জাতির জন্য এবং তারেক রহমানের জন্যেও অত্যন্ত লজ্জার।

এটি প্রহসনের রায় ছাড়া আর কিছু নয়।

জুলাই জঙ্গী অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

এদিন, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন।

প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় ঘোষণা উপলক্ষে পৌনে ২টার দিকে হাজতখানা থেকে ইনুকে এজলাসে তোলা হয়। ২টার কয়েক মিনিট আগে রায় পড়া শুরু করে আদালত।

এজলাসে তোলার সময় ইনু পুলিশকে তার হাত ধরতে পরিষ্কারভাবে মানা করেন।

সিংহ সিংহই থাকে। সে কোনোদিন শৃগাল হয়না।

ইনু সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি ও কফি কালারের জুতা পরে আসামির কাঠগড়ায় চেয়ারে পায়ের ওপর পা তুলে বসে রায় পড়া শোনেন। তাঁর কায়দাই বলে দিচ্ছিলো তিনি ভয় পাবার জন্য আসেননি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *