মেহেরপুর: সরকারি বিদ্যালয়ের খাবার নিয়ে অভিযোগ আছেই। যত পচা খাবার দেয়া হচ্ছে বাচ্চাদের। অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এইসব ঘটনায়।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম এবং ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়া হয়।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সুশীলন’ নামে একটি এনজিওর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার গাংনী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, চলতি বছরের ২৯ মার্চ স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হওয়ার পর থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদের যোগসাজশে নিম্নমানের খাদ্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। বারবার জানানোর পরও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে।
জানা গিয়েছে, উপজেলার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৩৪৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য এই কর্মসূচির আওতায় পাউরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট সরবরাহ করা হয়।
খাদ্য সরবরাহ যখন শুরু হয় তখন থেকেই অভিযোগ উঠতে থাকে। তদারকির অভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সরকারি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিক হাসান বলে, ‘আমাদের পচা ডিম ও পাউরুটি দেওয়া হয়েছে। এগুলো খেলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ব।’
সাবিত আবির বলে, ‘ডিমের খোসা ছাড়ানোর সময় ভেতর থেকে পানি বের হতে দেখে ফেলে দিয়েছি। এই নিম্নমানের খাবারে আমরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছি।’
আরো এক ছাত্র বলে, ‘সরকার ভালো খাবারের জন্য টাকা দিলেও আমাদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে। এগুলো খেয়ে এই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।’
বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজারুল ইসলাম বলেন, ‘পচা ডিম ও নিম্নমানের খাদ্য দিলেও কিছু করার থাকে না। বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি, উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়।’
