ঢাকা: কিছুদিন যাবত দেখা যাচ্ছে, পবিত্র কালেমা লেখা পতাকা রাস্তার মোড়ে-ব্রীজে টানানো হচ্ছে, বাইকে শোডাউন দেয়া হচ্ছে!

তারা কী বার্তা দিতে চায় বিশ্বকে?

একবারও কি ভেবে দেখেছে সারা বিশ্ব যে পতাকাকে উগ্রবাদী সন্ত্রাসী-জঙ্গীদের পতাকা হিসেবে জানে সেখানে বাংলাদেশের উগ্রবাদীরা রাস্তায় রাস্তায় এই পতাকা টানিয়ে কি বুঝাতে চাইছে?

উদ্দেশ্য কি ছওয়াব কামানো নাকি পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করিয়ে দেয়া?

সরকার ও জনগণ জানে এসব পতাকার আড়ালের আসল রহস্য কি! তবে আমাদের দেশের ধর্মান্ধরা জানে না। জানে ঠিকই, না জানার ভাবভঙ্গি দেখায়।

ইসলামের কথা বলে দেশের বিভিন্ন রাস্তায় তালেবানের পতাকা উড়ানো হচ্ছে। আইএস এর মত সন্ত্রাসীরা এমন পতাকা ব্যবহার সাধারণ মুসলিমদের বোকা বানায়।

এবার তো দেশের জাতীয় পতাকার পর্যন্ত বিকৃতি ঘটানো হচ্ছে। একপাশে জাতীয় পতাকা, আরেকপাশে কালেমা লিখে বিক্রি করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জাতীয় পতাকা বিকৃত করে আরবি অক্ষরে কালেমা যুক্ত করে বিক্রির অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে তাদের আটক করা হয়। শুক্রবার দুপুরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুইজনকে করে লোকদেখানো আরকি। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও এখন ভাইরাল। সেখানে দেখা যাচ্ছে এইরকম বিকৃত জাতীয় পতাকা তৈরি হচ্ছে কারখানায়। সেটা কোন কারখানা, সমস্ত বিষয়ে কি সরকার এখনো টের পায়নি? বিক্রি করা তো পরে, আগে তো বানানো হচ্ছে পতাকা গুলো এইভাবে করে। তাদের পাতা কে চালাবে?

গ্রেফতার দুজন হলেন– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার মাওলানা এরশাদ আলীর ছেলে মো. নিয়ামক উল্লাহ (২৫) এবং শেরপুর সদর উপজেলার চান মিয়ার ছেলে সিদ্দিক (২৬)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিতালি মার্কেট এলাকায় ওই দুজন আরবি অক্ষরে কালেমা লেখা জাতীয় পতাকা তৈরি করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি করতেন।

সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তাদের তৈরি এ ধরনের পতাকা উড়তে দেখা যাওয়ায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ওসি বলেন, ‘জাতীয় পতাকাকে বিকৃত করে কালেমা সংযুক্ত পতাকা তৈরি করে অনলাইন পেজের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ কার্যক্রমের পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *