ঢাকা: ইউনূসের সময় আর এখন তারেক রহমানের সময়- কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক জুলাই দিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে জামাত শিবির, এক জুলাই দিয়ে দেশটাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

জুলাই মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা দিয়েছে, জুলাই জঙ্গীরা দেশটাকে আমেরিকার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।

এবং সম্প্রতি “শিখা অনির্বাণ” নিভিয়ে দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধিতার চরম আত্মপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে। জুলাই জাতিকে একটা জঙ্গী রাষ্ট্র উপহার দিয়েছে।

‘শিখা অনির্বাণ’ যে নিভিয়ে দেয়া হয়েছে প্রতিবাদ দেখেছেন কোথাও? এত এত কন্টেন্ট ক্রিয়েটার, কাউকে দেখেছেন মুখ খুলতে? কেউ খুলবে না।

দেশটা রাজাকারে ছেয়ে গেছে।

শিখা অনির্বাণ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ। একটি চিরন্তন শিখা (eternal flame), যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রজ্বলিত রাখা হয়েছিল।

অমর আত্মত্যাগের প্রতীক এটি। অনির্বাণ (যে আগুন কখনও নেভে না) শিখা শহীদদের আত্মত্যাগ কখনও বিস্মৃত হবে না—এই অঙ্গীকারের প্রতীক।

প্রতীক হিসেবে ‘শিখা অনির্বাণ’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, শহীদদের আত্মদান এবং স্বাধীনতার স্মৃতির একটি রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় প্রতীক।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাধীনতার মূল্য স্মরণ করিয়ে দেওয়াও এর উদ্দেশ্য। অথচ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এখন বানানো হচ্ছে জঙ্গী। ওরা শিখা অনির্বাণ চিনবে কোথা থেকে?

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মদান ও স্বাধীনতার স্মৃতিকে ভুলিয়া দেয়া নিয়ে, মঞ্জুরুল হক একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন।

” ধর্মীয় মৌলবাদ আক্রান্ত সেনাবাহিনী ইনুসের দুই বছরে র‌্যাডিকেল আইডোলজির প্রাকটিস করতে করতে এখন এতটাই ধর্মাশ্রীয় হয়েছে যে সেনা শৃঙ্খলা, নর্মস, প্রোটোকলের তোয়াক্কা না করে তারা বাংলাদেশের প্রচণ্ড আবেগের ‘শিখা অনির্বান’ নিভিয়ে দিয়েছে। এখন অবস্থা এতটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে যে এই সেনাবাহিনী যে কোনো সময় ইরানের IRGC (Islamic Revolutionary Guard Corps)-এর মত জনগণের ওপর শরিয়াহ আইনি বলবত করার কাজে লেগে পড়ার বিপদও আছে!

এই সমগ্র ব্যাপারগুলো জামায়াতের কৌশলের জয়। বিএনপি-আওয়ামী লীগ যখন একে অপরকে কুপোকাত করার কাজে ব্যস্ত ছিল, সেসময় জামায়াত নীরবে নিজেদের সুদূরপ্রসারী ছক বাস্তবায়নে রত ছিল। আজকে তারা দম্ভভরে নিজেদের ক্ষমতার বিচ্ছুরণ দেখাচ্ছে। আওয়ামী লীগ তো বটেই, তারা এমনকি তাদের প্রেট্রোনাইজার ওয়েলউইশার বিএনপিকেও ‘খেয়ে’ দিতে পারে।”

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে শিখা অনির্বাণ নেভানো হয়েছে এই কথা বিশ্বাস হয়?

কয়দিন পর হয়তো বলবে, শহীদ মিনার- স্মৃতিসৌধ এগুলো এই জনবহুল দেশে ভূমি এবং অর্থের অপচয়! তাই ভেঙে ফেলা হবে, সেই জায়গায় কারখানা, ঘর হবে! এমন হতেও তো পারে যা পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

আসলে দীর্ঘদিন ধরে জামাত শিবির রাজাকার বিশেষ শিখা অনির্বাণকে “অগ্নিপূজা” বা “শিরক” বলে আখ্যায়িত করে এটি বন্ধের দাবি জানিয়ে এসেছে, যারা শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকেও বিদআত বলে দাবি তুলেছে ।

এটা তাদের চিন্তার প্রতিফলন।

১৯৭৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর, যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ-পরবর্তী কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) শিখা অনির্বাণ উদ্বোধন করেছিলেন।

সেই উদ্বোধনের ৪৯ বছর পর, তাঁরই পুত্র দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ব্যয়সংকোচনের যুক্তিতে সদা প্রজ্জ্বলমান সেই শিখা নিভিয়ে দেওয়া কী বার্তা দিচ্ছে দেশে বিদেশে? খুব ভালো বার্তা যাচ্ছে কি?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *