ঢাকা: জাতীয় সংসদ ভবনে আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে হলো সরকার ও বিরোধীদলকে। আহারে কত দেউলিয়া হয়েছে দেশ! এই দেশের অস্তিত্ব এখন আমেরিকার হাতে।

একদিকে খোমেনির জানাযায় নেতাদের পাঠান আরেকদিকে আমেরিকাকে নিয়ে উদযাপন করেন। ভন্ডামীরও তো একটা সীমা থাকে।

আর আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসই বা কেন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বসে উদযাপন করতে হবে?

স্বাধীনতা বিরোধীদের কথা অনুযায়ী ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করা আওয়ামী লীগ, কখনো ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান না করলেও, বিএনপি- জামায়াত কিন্তু ঠিকই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন অনুষ্ঠান করছে তাও আবার সংসদ ভবনে।

এখন ঐ নামকরা স্লোগানটা কোথায় গেলো বাবা? এখন যে গোলামির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে দেশ? এখন কী চোখে ন্যাবা উঠেছে স্লোগান মাস্টারদের?

গোলামী না আজাদী? স্লোগান কি হবে না আর?

এতবছর কোনদিন শুনেছেন ভারতের স্বাধীনতা দিবস পালন করতে বাংলাদেশে? করলে হয়তো এই সংসদ ভবনটাই গুঁড়িয়ে দেয়া হতো!

অথচ এখন ওরা নিজেরা আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস পালন করে, তাও আবার সংসদ ভবনে!

জানা মতে, বাংলাদেশের সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এর আগে কখনো আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়নি। কিন্তু এখন তা হয়েছে!

যে আওয়ামী লীগকে “ভারতের কাছে দেশ বিক্রির” অভিযোগে বছরের পর বছর আক্রমণ করা হয়েছে, সেই আওয়ামী লীগও কখনো ভারতের স্বাধীনতা দিবস সংসদ ভবনে উদযাপন করেনি।

অথচ বিএনপি-জামায়াত সরকার সংসদ ভবন প্রাঙ্গণেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে।

এছাড়াও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের জন্য বিশেষ জোন প্রস্তুত করা হচ্ছে; যাতে বাংলাদেশেকে সফট পাওয়ার বিস্তার ও রাজনৈতিক প্রভাব তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

বাংলাদেশ যে পুরোপুরি দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে তা কী আরো বোঝাতে হবে?

তারেক রহমান পুতুল, আসলে দেশ চলছে জামাতের ইশারায়‌।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় একদম মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার ৪ জুলাই বিকেলে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস দিবসটি ঘিরে অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমাদের সংসদ ভবনের নকশা করেছেন বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান। ঠিক তেমনি আমেরিকার স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বিশিষ্ট বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এই পারস্পরিক অবদান প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ ও আমেরিকা আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে।’

অনুষ্ঠানে সংসদের বিরোধী দলের নেতা, সাদা শকুন জামায়াত আমির মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক স্বার্থ এবং অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে, যেখানে দুই দেশের টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরবচ্ছিন্ন অবদান ও যৌথ অঙ্গীকার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *