ঢাকা: হাম বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। নিয়মিত টিকা কার্যক্রমের ফলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে ছিল বছরের পর বছর।
কিন্তু সেটাই ফেরত এসেছে এবং এখন অবধি প্রায় ৮০০ শিশু মারা গিয়েছে।
ইউনূস সরকারের আমলে টিকা কার্যক্রম কতটা সচল ছিল, স্বাস্থ্য খাতে কী হয়েছে, এই প্রশ্নগুলো তোলার কথা ছিল তারেক রহমানের সরকারের।
কিন্তু সেই প্রশ্ন করছে না কেউই।
টিকা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলো ইউনিসেফ। সেখানে সংস্থাটির প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ১০ বার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ এবং এ বিষয়ে ৫টি চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো ব্যবস্থা নেননি স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।
আইন আদালতও ইউনূসের কথায় ওঠাবসা করে।
এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন খারিজ হয়।
৮ জুন শুনানি শেষে মামলা খারিজ করে দেন সিএমএম আদালতের বিচারক।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।
এবার ফের মামলার আবেদন করা হয়েছে। হয়তো এবারো খারিজ হয়ে যাবে। আমরা তো এই দৃশ্য দেখেই আসছি।
এবারো অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলার আবেদন করেন সিরাজুল ইসলাম নামে একজন ব্যক্তি।
তিনি তাঁর মেয়েকে হামে হারিয়েছেন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন।
অপেক্ষমান রেখেছে, তারপর জানিয়ে দেবে আবেদন খারিজ।
মামলার আবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক ও মার্চের শুরুর সময়ে শরীয়তপুর সদরের ৯ মাস বয়সী সাউদা মুসকান হঠাৎ মারাত্মক জ্বরে আক্রান্ত হয়। স্থানীয় চিকিৎসায় কোনো ফল না পাওয়ায় মার্চের প্রথম সপ্তাহে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
সেখানে হামের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য পাওয়া যায়নি। অবশেষে শিশুটিকে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২২ মার্চ স্থানান্তর করা হয়।
সেখানকার চিকিৎসক ও নার্সরা বাদীর স্ত্রীর হাতে ২৬ মার্চ অক্সিজেন সিলিন্ডার ধরিয়ে দিয়ে বাচ্চার মুখে লাগাতে বলে।
তবে শিশুর মা ব্যর্থ হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক সুইপারকে দিয়ে শিশুর মুখে তা লাগিয়ে দেন। এর ঘণ্টা দুয়েক পরে শিশুটি মারা যায়।
ডাক্তারের কাছ করে সুইপার!
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের টিকার জোগান সময়মতো না থাকা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং টিকা কেনা ও তা দেওয়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক খামখেয়ালিপনা এবং অবহেলাজনিত কারণে দেশে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সাউদা মুসকান অন্যতম।
এসব মৃত্যুর দায় বিবাদীরা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না বলে আবেদনে সাফ উল্লেখ করা হয়েছে।
