চট্টগ্রাম: বিয়েশাদি বা অন্য সামাজিক অনুষ্ঠানও আজকাল সেই অবৈধ ইউনুস রেজিমের মতই চক্ষুশূল বিএনপি রেজিমের কাছে!
সাধারণত এ ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া অনেকটা সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
বিশেষ করে তা কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি’র) দায়িত্ব পালনকালে। কিন্তু সেটাই তার সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়ালো।
কোরবানির শিকার হলেন চট্টগ্রামের সদরঘাট থানার ওসি মিজানুর রহমান। তবে তিনি রোষানলে পড়লেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের।
অথচ এই শাহে আলম তার নানাবিধ স্বজনপ্রীতিমূলক কাজের জন্য দেশজুড়ে এরই মধ্যে বিতর্কিত হয়েছেন।
বগুড়াতে তার দুই পুত্রের নামে দুটি ইউনিয়নের নামকরণ, অপর একটি ইউনিয়ন তাদের বংশগত পরিচয় ‘মীর’ দিয়ে করেছিলেন।
এরপর একটি বালিকা বিদ্যালয়কেও এই প্রতিমন্ত্রী তার নামে নামকরণের জন্য সবকিছু করে ফেলেছিলেন।
তবে যতদূর জানা গেছে, নানা সংবাদ মাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব নামকরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এই শাহে আলম নিজে সরকারি পদের অপব্যবহার করে নিন্দিত হওয়ার পর একজন পুলিশ ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে কিনা সরকারি পদের অপব্যবহার, দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন! কতই বিচিত্র ক্ষমতাবানদের চরিত্র!
ওই যে একটি প্রবাদ আছে- ‘চালুনি বলে নারকেলের খোলকে, তোর পাছায় একটি ফুটো।’ এক্ষেত্রেও বোধ হয় তাই হলো।
কিন্তু সেই বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের একটি চিঠি’র সূত্র ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি ডিও লেটার পাওয়ার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসন ওসি মিজানুর রহমানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্ণফুলী থানা থেকে যোগদানের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় এফএম মিজানুর রহমান প্রত্যাহার হলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ওসি মিজানুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি,চাঁদাবাজি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলে সরকারি পদের ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
অবশ্য এর মধ্যে অভিযোগ তদন্তে সিএমপি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমুহ অস্বীকার করেছেন সদরঘাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
তিনি একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। কর্ণফুলী থানায় কর্মরত থাকাকালীন আমি আওয়ামী লীগের এক নেতার মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলাম। সেই ছবিই এখন আমাকে হয়রানি করতে নানাভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি কোনো অন্যায় করিনি।”
সিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ওই চিঠির প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখার উপ-সচিব নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত এবং পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে প্রতিমন্ত্রীর ওই চিঠির সূত্র উল্লেখ করা হয়।
উপ-সচিব পুলিশকে এই অভিযোগগুলো তদন্ত করতে, আইনি ব্যবস্থা নিতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানাতে নির্দেশ দেন।
সিএমপি সূত্র জানায়, চিঠি পাওয়ার পরপরই ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
