ঢাকা: এ দায় কার? স্রষ্টার নাকি সৃষ্টির?শাসকের নাকি শোষকের?
যে মানুষ ভিক্ষা করে খায়, সেই বৃদ্ধা মহিলার ওপর নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে। এবং যৎসামান্য টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। হজম হবে তো?
রেলস্টেশনই ছিল তাঁর ঘর, জমানো টাকার জন্য প্রাণ গেল ববি বেগমের।
নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে দুর্বৃত্তদের হামলা ও লুটের শিকার বাকপ্রতিবন্ধী ববি বেগম (৭০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
ববি বেগমের (৭০) মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।
উল্লেখযোগ্য যে, গত মঙ্গলবার রাত ১টা ১৫-র দিকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে ববি বেগমের মৃত্যু হয়।
এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মেথিকান্দা রেলস্টেশনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং তাঁর দীর্ঘদিনের কিছু সঞ্চিত অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।
ভাবা যায় এই দেশটা কোথায় পৌঁছেছে? এই নরপিশাচের দল তো নিজের মাকেও মেরে হজম করে ফেলবে! করছেও।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
হামলা ও লুটের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে। পরে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ববি বেগমের পাশে দাঁড়ায়।
স্টেশন সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে একটি ট্রেন থেকে নেমে মেথিকান্দা রেলস্টেশনেই থেকে যান ববি বেগম।
এর পর থেকে স্টেশনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষই ছিল তাঁর আশ্রয়। সেখানেই থাকতেন। কেউ তাঁকে বলতো না চলে যেতে।
তিনি বিনা পারিশ্রমিকে প্ল্যাটফর্ম ঝাড়ু দেওয়া, শৌচাগার পরিষ্কারসহ বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা তাঁকে খাবার ও আর্থিক সহায়তা দিতেন। সেই সহায়তার বেশির ভাগই তিনি জমিয়ে রাখতেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ওই সঞ্চিত অর্থ লুট করতেই দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়।
