যশোর: দেশ জুড়ে জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এবং জালে পড়ছে একের পর এক উগ্রবাদী। যারা জঙ্গী সংগঠনের সাথে জড়িত। দেশের তরুণ প্রজন্মের সামনে কোনো সুন্দর লক্ষ্য নেই, ওরা জড়াচ্ছে জঙ্গী কাণ্ডে।
এর আগে এনসিপির এক নেতা সাব্বিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এবার যশোরে আরেক সদস্যকে গ্রেফতার করলো।
অভিযোগ, গ্রেফতার যুবক তাহসিন ইসলাম একটি উগ্রপন্থী সংগঠন ‘ফতেহ কমব্যাট সিস্টেম-এফসিএস’-এর সক্রিয় সদস্য। সন্দেহ করা হচ্ছে সাব্বিরের মতই ভারতে নাশকতার ছক কষছিল এরা।
এদের দলে আরো সদস্য তো আছেই। তৎপরতা জারি রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার কিসমত নোয়াপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক এ বি সিদ্দিক আসামি তাহসীনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন।
এবং একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মিরাজুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাহসিনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিন এফসিএসের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
ঢাকার কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের দায়ের করা একটি মামলার তদন্তের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
তাহসিনের বয়স মাত্র ১৯ বছর। যে বয়সে ছেলে মেয়েদের কলেজে পড়ার কথা সে বয়সে ওরা জঙ্গী শিক্ষা নিচ্ছে, জঙ্গী হয়ে উঠেছে।
তাহসিন ইসলাম নোয়াপাড়া এলাকার ওহিদুল ইসলামের ছেলে। তার বাড়ি থেকে পুলিশ একটি দা, বৈদ্যুতিক তার এবং কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করেছে।
এর আগে এফসিএসের শীর্ষ নেতা শাহ আমানত সাব্বির পুলিশের কাছে স্বীকার করেছিলো, ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’-এর প্রস্তুতি হিসেবে তারা বোমা তৈরি এবং আতশবাজির উপকরণ দিয়ে বিস্ফোরণের অনুশীলন করছিলো।
তার স্বীকারোক্তির পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলায় এফসিএসের সদস্যদের গ্রেফতার অভিযান জোরদার হয়।
