ঢাকা: দীর্ঘ ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর পশ্চিমবঙ্গে ফিরছেন লেখক তসলিমা নাসরিন!

এই খবরে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি প্রকৃতার্থে সারা ভারত আনন্দিত।

আগামি ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ‘নির্বাসিত’ লেখক তসলিমা নাসরিন।

বাংলাদেশ থেকে তো কবেই নির্বাসিত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গেও তাঁর জায়গাটা কেড়ে নেয়া হয়েছিলো। অবশেষে তিনি ফিরছেন। ফেরার আশা ছিলো তসলিমার, সেই আশা সফল হলো অবশেষে। জানা নেই, নিজের মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফেরার আশা কোনোদিন সফল হবে কিনা।

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসার পরেই তসলিমা নাসরিনকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ফিরিয়ে নেয়ার দাবী করে অনেক দিন ধরেই লেখালেখি চলছে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২০ বছর আগে তাড়িয়েছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনকে। তারপর গেলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে।

অবশেষে আগামি ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাবেন নাসরিন।

২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তসলিমা। দীর্ঘ দুই দশক পর পশ্চিমবঙ্গে ফিরছেন আলোচিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন।

এবার ২০ বছর পর ফের বাংলায় তাঁর পদার্পণকে অনেকেই প্রতীকী প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন।

রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সাহিত্য, সমাজ ও নারী স্বাধীনতা নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।

‘সেক্যুলার মিশন’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটার্স ফাউন্ডেশন’— এই দুই সংগঠন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা তসলিমার।

উদ্যোক্তাদের অন্যতম ওসমান মল্লিক সমাজমাধ্যমে অনুষ্ঠানের একটি পোস্টার শেয়ার করে তসলিমার পশ্চিমবঙ্গে আসার কথা জানিয়েছেন।

পোস্টারে লেখককে ‘মৌলবাদ বিরোধী প্রতিবাদের অগ্নিসম প্রতীক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তসলিমাকে কলকাতা নেয়ার ব্যাপারে নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও পদক্ষেপ করেছেন বলেন জানান রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

তিনি বলেন, ‘তসলিমা নাসরিন আবার কলকাতায় আসছেন, এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আজ সকালেও ওঁর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি একজন ট্যালেন্টেড লেখিকা। এত দিন ওঁকে নির্বাসনে রাখা হয়েছে। বিচার পাননি উনি।’

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে তসলিমাকে কলকাতায় ফেরানোর দাবিতে সংসদে সরব হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।

তার প্রেক্ষিতে ভারত সরকার সেই সময়ে জানিয়েছিল, লেখিকার কলকাতায় ফেরায় কোনও বাধা নেই।

শমীক বলেছিলেন, ‘তসলিমা একজন বাঙালি লেখিকা। তিনি বাংলায় লেখেন। তাঁর পাঠকেরা বাঙালি। তাঁকে বছরের পর বছর বাংলা থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করা হবে কেন? যাঁদের জন্য লেখেন, তাঁদের মাঝে কেন বাঁচতে পারবেন না? আমি এই প্রশ্নই রাজ্যসভায় তুলেছিলাম। ভারত সরকারকে ধন্যবাদ। তারা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিল, তসলিমার কলকাতায় ফেরার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *