ঢাকা: শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদ এবং সমালোচনা চলছে দেশজুড়ে।

‘ফার্মের মুরগী’ বক্তব্য ইস্যুতে সংসদে দুঃখ প্রকাশ করছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এবং চট্টগ্রাম বোর্ডের সঙ্গে পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্র, হিসাব বিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ফার্মের মুরগী কথাটি নিয়ে বিতর্ক চলছে।

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহছানুল হক মিলনের একটি অডিয়ো ক্লিপকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাছির দাবি করেন, শিক্ষামন্ত্রী নিজের মেয়েকে ‘ব্রয়লার মুরগির মতো’ বলেছেন।

অথচ ছাত্ররা এটা নিজেদের গায়ে মেখে নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা সিটি কলেজের এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর একটি মোবাইল ফোন কল রেকর্ড সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মূলত, ওই পরীক্ষার্থীকে অভয় দিতেই তাঁর অভিভাবকের অনুরোধেই শিক্ষামন্ত্রী ফোন কলে কথা বলেন।

কথোপকথনের মূল অডিয়োতে শিক্ষামন্ত্রী ‘ফার্মের মুরগি’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।

তিনি ওই ছাত্রীকে বলছিলেন, “মিটিংয়ে এক জন বলছিলেন, ‘একটু ভিজলেই আমার মেয়ের জ্বর চলে আসে।’ তখন আমি বলছিলাম যে, এগুলো তো ফার্মের মুরগি, একটু ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।

এক দিন বৃষ্টিতে ভিজবে জ্বর আসবে, তখন পরের তিন দিন তো আর পরীক্ষা দিতে পারবে না এরা।”

যাই হোক, তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৬ পাসের আগে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী এই দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলিনি।
যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন, সিম্পলি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

পরীক্ষা পেছানোর দাবি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা। এই পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল, অনেকেই ভিজেছে এবং পরীক্ষায় সঠিক ভাবে দিতে পারেনি- এই ধরণের কমপ্লেন এসেছে। আমরা যদিও সবসময় প্রশ্নপত্রের ব্যাপারে সজাগ ছিলাম, তারপরও শিক্ষার্থীদের দাবি এসছে এই পরীক্ষাটি নিয়ে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই বন্যার কারণে আমরা চিটাগাং বোর্ডের প্রত্যেকটি জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি এবং আমাদেরকে পুনরায় পরীক্ষা নিতেই হবে। এইক্ষেত্রে আমরা ভেবেচিন্তে দেখেছি, চিটাগাং বোর্ডের পরীক্ষার আরেকটি প্রশ্নপত্রের সেটে যখন আমরা নিতে যাব— পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথমপত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাব বিজ্ঞান, সেই সময়ে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব- ইনশাআল্লাহ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *