‘আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই’—এমন নানা ধরনের শ্লোগান দিয়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক ধর্মব্যবসা চালিয়ে গেছে এতদিন।

একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা ইসলাম ধর্মের নামে এরা নির্বিচারে নারী ধর্ষনসহ নানা ঘৃণ্য অপকর্ম করে গেছে। তখন তারা নারীদেরকে বলতো “গণিমতের মাল”।

আর সেই ধর্ষকের দলই হলো জামায়াতে ইসলামী। মুখে যাদের ধর্মের কথা। এদের একেকজন পুরুষ নেতাকর্মী মাথায় টুপি, গালে শ্মশ্রু আর সৌদি ষ্টাইলে অনেকটা জোব্বা পড়ে বার বার ধর্মের কথা বলে সব ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থেকেছে।

কিন্তু এদেশের অনেক মুসলমান ধর্মের ধ্বজাধারী ধর্ষকের দলটিকে বার বার ন্যায়-নীতিবান দল ভেবে বার বারই প্রতারিত হয়েছে ও হচ্ছে।

তো সেই যে ইসলামের নামে এরা নানাভাবেই মানুষকে প্রতারিত করছে, নারীদেরকে নিজেদের ভোগ্যপণ্য ছাড়া আর কিছু ভাবেনি তা আর কবে বুঝবে এই বাঙ্গালি (থুঁড়ি বাংলাদেশী) মুসলমান?

শুধু জামায়াতে ইসলামীই নয় এমন আরো অনেক ইসলাম ধর্মের ব্যবসায়ী দল আছে বাংলাদেশে যাদের নেতাকর্মীরা অধিকাংশই এমন দুশ্চরিত্রের অধিকারি। ধর্মের নামে এরা পারেনা হেন কোন কাজ নেই।

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এবারের ত্রয়োদশ ইলেকশনে এই জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সংসদ সদস্য পদগুলো দখল করেছে।

সেসব স্থানে এরা চোরাচালান, অস্ত্র ব্যবসা, হুন্ডি ব্যবসা, মানুষ পাচার, নারী ও শিশু পাচারসহ নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এমন অনেক তথ্যই রয়েছে। আর এর সবই তারা করছে ইসলামের নামে , তাদের কোরআনের নামে।

অবস্থাটি এমন হয়েছে ধরা খেলে হারাম, আর ধরা না খেলে আরাম.. আরাম! এসব ধর্ম ব্যবসায়ীরা নানাভাবেই এই অবৈধ যৌনাচার নিয়ে ধর্মের নানা অপব্যাখ্যা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে বার বার।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম একটি হোটেলের কক্ষে এক তরুনীকে নিয়ে অপকর্মের পর যেভাবে ধরা খেলেন তা নিয়ে সম্প্রতি সারাদেশেই আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

অবস্থা চরম বেগতিক দেখে তার জন্য এই কথিত ইসলামী দলটি অবশেষে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এটি যে শুধু লোক দেখানো তা বুঝতে আর বাকী নেই কারো।

জামায়াতে ইসলামী একটি ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক দল। আর সেই দলের যে এমপি নমিনেশন পাবে এবং জিতে আসবে তাকে তো আর যেমন তেমন লোক বলার কোন সুযোগ নেই।

নিশ্চয়ই তাকে নমিনেশন দেয়ার আগে নানাভাবেই যাচাই-বাছাই করেছেন জামায়াতের উচ্চপর্যায়ের নেতারা। নিশ্চয়ই তার শিক্ষা-নৈতিকতা ইত্যাদি বিষয়ও পরীক্ষা –নিরীক্ষা করেই তাকে নমিনেশন দিয়েছিলেন। তো এই যে নারী কেলেঙ্কারিতে ‘কট’ হলেন তাদের সেই সাংসদ তার জন্য তার শাস্তি কি শুধু দল থেকে বহিষ্কারই যথেষ্ট?

নাকি দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে পদত্যাগের জন্য বাধ্য করা হবে? কারণ দল থেকে বহিষ্কার করলেই কিন্তু সংসদ সদস্য পদ থেকে বাদ দেয়ার সুযোগ বোধ হয় বাংলাদেশের সংসদীয় আইনে নেই।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন আইনজীবী ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার মতে- “সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার বা পদে থাকার যোগ্যতা, অযোগ্যতা বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। নৈতিক স্খলনের বিষয়ে বলা আছে ৬৬(১)(ঘ) অনুচ্ছেদে। কিন্তু সেটি আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত হতে হবে। সেরকম কোন সিদ্ধান্ত এক্ষেত্রে নেই।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কেননা, সেখানে বলা আছে যদি কোন সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করেন বা দলের বিপক্ষে ভোট দেন তাহলে তিনি সদস্য পদ হারাবেন। তাকে বহিস্কার করা হয়েছে, তিনি পদত্যাগ করেননি। দুটো বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

তবে, সংবিধানের এই দুই অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যার বাইরে একটি বিষয় পরিস্কার যে, এখানে নৈতিক স্খলনের বিষয় আছে। সেক্ষেত্রে তার সংসদ সদস্যপদ থাকবে কিনা তা নির্ধারণের জন্য অনুচ্ছেদ ৬৬(৪), সংসদ সদস্যের বিরোধ নিস্পত্তি আইন, ১৯৮০ এর ৩ ধারা এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি এর ১৭৮ বিধি মোতাবেক সংসদের মাননীয় স্পীকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করবেন। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।”

তারমানে আইনী মারপ্যাঁচ ও অষ্পষ্টতা রয়ে গেছে অনেক। পাঠকের নিশ্চয়ই মনে আছে হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সোনারগাঁও রিসোর্ট-কান্ডের মত ন্যাক্কারজনক ও ঘৃণ্য অপকর্মের পরও সেই বিকৃত-মিথ্যাবাদী মামুনুল হক সেসব থেকে রেহাই পেয়েছিল নানা ফন্দিফিকির করে।

তার যৌনকর্মের সঙ্গীনীকে স্ত্রী দাবি করেছিলেন। এমনকি তার প্রথম স্ত্রীও তার লুইচ্চা স্বামী মামুনুলের পক্ষে সাফাই গাইতে বাধ্য হয়েছিলেন।

২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীসহ স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হন মাওলানা মামুনুল হক।

তিনি ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করলেও, পরবর্তীতে ওই নারী তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।

বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই ২০২৪ সালে এই মামুনুল তার দলের প্রভাব খাটিয়ে আদালত থেকে এই ধর্ষণ মামলায় বেকসুর খালাস পেয়ে যান।

উল্লেখ্য স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ২০২১ এর ৩ এপ্রিল সোনারগাঁর রয়্যাল রিসোর্টে জান্নাত আরা ঝর্ণা নামে এক নারীকে নিয়ে যান মামুনুল হক। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে হোটেল কক্ষে তাদের দুজনকে আটক করে।

পরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা রাত ৮টার দিকে রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে মামুনুল হক ও জান্নাত আরা ঝর্ণাকে নিয়ে যায়।

চিন্তা করুন কেমন দুঃসাহস এই হেফাজতে ইসলামীর ক্যাডারদের। এরাই নাকি ইসলামের হেফাজত করে?! এরপর ৩০ এপ্রিল ঝর্ণা সোনারগাঁ থানায় বাদী হয়ে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

ওই মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই বছর ধরে বিয়ের আশ্বাসে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু ২০২১ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলেও এই বদমায়েশ- দুশ্চরিত্র মামুনুল হকের বিচারটি দ্রুতগতিতে করে তার শাস্তি দিতে পারেনি। এটি চরম ব্যর্থতা সে সময়কার শাসক দলের।

জামায়াতের এই নেতা-সাংসদ গাজী নজরুল ইসলামও নানা ফন্দি-ফিকির খুঁজছিলেন ও খুঁজছেন তার দোষকে নানাভাবে আড়াল করতে। জামায়াতও দলগতভাবে অনেক চেষ্টা করেছে।

তাদের দলের মহিলা সাংসদও কিন্তু গাজী নজরুল ইসলামকে বাঁচানোর জন্য নানাভাবে অপচেষ্টা করেছেন। বক্তব্যও দিয়েছেন। হায়রে জামায়াতের নারী সাংসদ! অবশ্য তারই বা দোষ কি? কারণ এরাওতো তাদের দলের মধ্যেই তাদের পুরুষ নেতাদের শয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য হন নানা সময়ে।

বিভিন্ন সময়েই খবর বের হয়েছে যে, জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রী সংস্থা নামে যে সংগঠনটি রয়েছে সেটির নেতাকর্মীরা জামায়াত ও শিবিরের নেতাদের কাছে মনোরঞ্জনের খোরাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছেন।

তো এই যখন এই দলটির ভেতরের অবস্থা তখন একজন জামায়াত নেতা ও সাংসদ গাজী নজরুল এই বৃদ্ধ বয়সেও একজন কিশোর উত্তীর্ন তরুণীকে হোটেল রুমে নিয়ে গিয়ে তার অদম্য লালসা মেটাবেন না তাতো আশা করা বৃথা।

ইসলামের নামে রাজনীতি আর ওয়াজ ব্যবসার সঙ্গে বাংলাদেশে যারা জড়িত তারা সেই জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম বা নেজামে ইসলাম বা অন্য যেকোন ইসলামপন্থী দলের নেতাকর্মী হোক না কেন এরা মূলত এ ধরনের যৌনলালসায় ভোগে।

কারণ তাদের হাতেতো অমোঘ অস্ত্র রয়েছে- ইসলামে চারটি বিয়ে করা যায়েজ আছে। সুতরাং তারা নানা কৌশলে এটিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অপরাধকে ধামাচাপা দিয়ে যাচ্ছে তাদের জন্মলগ্ন থেকে।

অনেক উদাহরণ দেয়া যাবে এসব ইসলাম ব্যবসায়ীদের। কিন্তু তাতে পাঠকের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাবে। অনেকের কাছেই নানা ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের এই “কট” হওয়ার পর। তিনি নিজে ও তার দল জামায়াতে ইসলাম নানা ধরনের বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে গেছে। ফলে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

অনেকেই বলছেন-

১। সাংসদ গাজী নজরুলের ভিডিওটি প্রকাশ হবার সাথে সাথে কেন বলা হলো এটি এ আই দিয়ে বানানো?

২। মেয়েটি যদি তার দ্বিতীয় স্ত্রী হয় তাহলে তো শুরুতেই কেন দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হল না?

৩। যদি মেয়েটি দ্বিতীয় স্ত্রী হয়ে থাকে তাহলে কেন প্রযুক্তির মাধ্যমে যারা এই ভিডিও ছড়িয়ে সাংসদ নজরুলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হলো না কেন?

৩। মেয়েটি যদি নজরুল সাহবের দ্বিতীয় স্ত্রী হন তাহলে মেয়েটির বায়োডাটায় কেন তাকে অবিবাহিতা দেখানো হলো?

৪। আবার দাবী করা হচ্ছে বিয়ে করেছেন ১৭ তারিখ অথচ বায়োডাটায় এমপি সাহেব সুপারিশ করেছেন ২১ তারিখ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ১৭ তারিখে বিয়ে করা নারী ২১ তারিখেও অবিবাহিতা থাকেন কিভাবে?

৫। এখন মেয়ের বাবাকে হাজির করিয়ে তাকে দিয়ে বলাচ্ছেন,- বিয়ে করে এমপি তার মেয়েকে নিয়ে তার অফিসে একটু বিশ্রাম নিতে এসেছিল।

আচ্ছা, বলেন তো বিয়ে করা বউ নিয়ে মানুষ শ্বশুর বাড়ি যায় সেটা জানি কিন্তু শ্বশুরের অফিসে গিয়ে রেস্ট নেয় এমন কিছু কি কেউ কখনো শুনেছেন?

৬। তবু ধরে নিলাম আপনাদের দাবীই সঠিক। মেয়েটি এমপি সাহেবের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাহলে এখন যারা এই ভিডিও ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কি জামাত দলগতভাবে বা এমপি সাহেব ব্যক্তিগতভাবে কোন আইনী ব্যবস্থা নিবেন?

এত ভয়ঙ্কর নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেন কিভাবে? আপনারা কি রক্ত মাংসের মানুষ নাকি আপনারা নিজেরাই এআই দিয়ে তৈরি?

ইতিমধ্যে জামায়াতের এই নেতার ভিডিও সামাজি যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়াতে অনেক কথিত সুশীল-মানবাধিকারকর্মী ব্যক্তিগত জীবনাচারণের বিষয় ফাঁস করে দেয়াকে অত্যন্ত গর্হিত ও মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতাবিরোধী বলে যুক্তি দেখাতে চাইছেন।

তার মধ্যে নারী-পুরুষ মিলেই রয়েছে। তবে আবার এর বিপক্ষেও নানা যুক্তি উত্থাপন করেছেন কেউ কেউ। তাদের বক্তব্য হলো- “পাবলিক ফিগার বা রাষ্ট্রীয় , দলীয় কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনে অবশ্যই পরিমিতবোধ থাকা উচিত। দুনিয়াব্যাপী কেউ গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেননি। ইতিহাস তার স্বাক্ষী।

আর যখন ক্ষমতার অপব্যবহার করে, লুচ্চামির উদ্দেশ্যে গোপনীয়তা রক্ষা করে কিছু করতে চাইবেন তখন তা জনসম্মুখে আসাই উচিত ”।

এমনও বলছেন তারা- জামায়াতের এ নেতা ধর্মকে ব্যবহার করে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত নারীদের পর্দাশালীন ভাবে চলার ফতোয়া দিচ্ছেন, আবার অল্প বয়সী নারী নিয়ে হোটেলে সময় কাটাচ্ছেন।

এটা নেহাৎ ভন্ডামী ছাড়া আর কিছু না । বউ হলে কেউ এভাবে হোটেলে চোরের মতো একান্ত সময় কাটায় না। এখানে উনার পদ পদবী ব্যবহার করে কেবল যৌনসুখ নিতে চেয়েছেন। ব্যক্তিগত বলে পাবলিক ফিগারদের কিছু থাকে না।

জনস্বার্থ তো অবশ্যই আছে। সৃষ্টিকর্তা জানেন আর ভুক্তভোগী নারীরা জানেন কতোজনের সর্বনাশ করেছেন।

সত্যিই তাই, সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামী দল যেভাবে নারীদেরকে “গণিমতের মাল” বলে আখ্যা দিয়ে তাদের ধর্ষণ করতো এখনো তারা ঠিক তাই করছে।

শুধু জামায়াত নয় বাংলাদেশে যত ধরনের ইসলাম ব্যবসায়ী রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আছে তাদের নেতারা এই ধর্মীয় আবরনের ফায়দা নিয়ে নারীকে তাদের ভোগের বস্তুতে পরিণত করেছে। আর তা নিয়ে ইসলামের নানা ফতোয়া দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।

ইসলামে ধর্মের নামে এ ধরনের ফতোয়া দিয়ে নিজের বা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের পথ যতদিন বন্ধ হবেনা ততদিন এভাবেই এ দেশের, এ সমাজের নারীরা নানাভাবেই এসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত যৌনদাসী হয়েই থাকবে।

সিদ্ধান্ত এদেশের মুসলিম নারীদের। তারা কি করবেন – তা একান্তই তাদের নিজেদের। কারণ তারা যদি মনে করেনন যে তারা আখেল্লার ভেতরে থেকে নিজেদেরকে এসব ধর্মীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি হবেন পণ্য হিসেবে তাও তারা করতে পারেন।

আর যদি মনে করেন তারা তাদের অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে বের হয়ে একটু আলেঅর মুখ দেখবেন, একটু স্বাধীনতার স্বাদ নেবেন তাও তারা করতে পারেন।

তবে বাংলাদেশের মেয়ে-নারীদের প্রতি একটিই অনুরোধ- বেরিয়ে আসুন ওই শৃঙ্খল ভেঙ্গে। বেরিয়ে আসুন বেগম রোকেয়ার শিক্ষার পথে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, আধুনিক-মানবিক-স্বাধীনতার শিক্ষা-নিজের মতামতের স্বাধীনতার শিক্ষাকেই প্রাধান্য দেয়ার শিক্ষা।

না হলে সেই হিযাব-নেকাবের অন্ধকারেই শুধু নয় মধ্যযুগীয় বর্বর দাসত্বের জীবনেই থাকতে হবে। বাংলার নারীরা কেন ভুলে যান যে আপনাদের পূর্বসূরি বিপ্লবী বীরকন্যা প্রীতিলতা!?

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রুমীর মা জাহানারা ইমাম যাকে জননী সাহসিকা বলে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই আমরা- সকলে তাঁর মত সাহসী হতে শিখুন।

# ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার কর্মী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *