ঢাকা: মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করেছেন। বিএনপির রাজনীতি আবারো হেরে গেলো। হেরে গেলো জামাতের কাছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন এখন সাবেক রাষ্ট্রপতি।
তবে পদ ছাড়লেও আরও দুই দিন বঙ্গভবনে অবস্থান করবেন তিনি।
সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ শনিবার বঙ্গভবনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিদায়ী বৈঠক করবেন তিনি। এবং রবিবার ফিরে যাবেন গুলশানের নিজের ফ্ল্যাটে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি শুক্রবার বঙ্গভবনেই থাকছেন। এর মধ্যেই তিনি চিকিৎসার জন্য দুইবার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গিয়েছিলেন। দুই-তিন দিন আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়েছে যে তিনি অটোনমিক নিউরোপ্যাথিতে আক্রান্ত। কিন্তু আজ এমন কিছু হলে জানতাম। তিনি বঙ্গভবনেই আছেন।’
সরওয়ার আলম বলেন, পদত্যাগ করলেও মো. সাহাবুদ্দিন প্রটোকলের (রাষ্ট্রাচার) বাইরে যাননি। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ছয় মাস তিনি প্রটোকল পাবেন। নিয়ম মোতাবেকই তিনি বঙ্গভবন থেকে বিদায় নেবেন।
হয়তো আজ দুপুর ১২টায় বঙ্গভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিদায়ী বৈঠক করবেন মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে গুলশানের ১২৩ নম্বর রোডের ‘গ্রিন ভিলা’ ভবনের সামনে ও আশেপাশের এলাকা একেবারেই নিরিবিলি ছিলো।
ভবনের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য অবস্থান করছিলেন। তবে শান্ত ভাবেই।
ভবনটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মো. মাছুম জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর তার এই ভবনের পঞ্চম তলায় ওঠার কথা রয়েছে।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, তিন-চার দিন আগে স্যার এখানে এসেছিলেন। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় শতাধিক মানুষ এসেছিলেন। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি আসেন এবং রাত পৌনে ৯টার দিকে চলে যান।
তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে বাসায় প্রয়োজনীয় কিছু ছোটখাটো কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া এখানে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন।
কী কী সুবিধা পাবেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু?
২০১৬ সালের ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে মেয়াদ শেষ করেছেন বা কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন ব্যক্তি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রতি মাসে সর্বশেষ যে বেতন পেতেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাবেন।
আইনে এ অবসরভাতা ছাড়াও বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ আছে।
যেমন, সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট পাবেন। দাপ্তরিক ব্যয়ও পাবেন, যার মোট বার্ষিক অঙ্ক সরকার নির্ধারণ করবে।
এবং সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বিনা মূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুবিধা, আবাসস্থলে একটি টেলিফোন সংযোগ এবং সরকার নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত এর বিল পরিশোধ থেকে অব্যাহতি পাবেন।
এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন মন্ত্রীর সমান পরিমাণ চিকিৎসা-সুবিধা ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাবেন। দেশের ভেতর ভ্রমণকালে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুবিধা পাবেন।
