সিলেট: ভারতের আসাম রাজ্যে ব্যাপক বন্যা হয়েছে। রাজ্যের জেলাগুলোতে পশুপাখি, মানুষের মৃত্যু বেড়েই চলেছে।
আসাম আজ শুধু বন্যার সঙ্গে লড়ছে না—হাজার হাজার নীরব আর্তনাদের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ভয়াবহ, বিশেষ করে উজান আসামের একাধিক জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
শত শত গ্রাম এখনও পানির নিচে, হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছাড়াও সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যতটুকু পারছেন সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করছেন। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় গিয়েও সাহায্য করছেন।

জিনিসপত্র, খাওয়া, বিস্কুট, খাওয়ার পানি, স্যানিটারি প্যাড ইত্যাদি তুলে দিচ্ছেন। বিশেষ করে জানা গিয়েছে, শিবসাগর জেলার অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ।
অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (ASDMA) রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন করে বন্যায় আরও চারজন মারা গিয়েছেন। এই মৃত্যুর পর মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬। সংখ্যাটা বেশিও হতে পারে।
শনিবার ASDMA-এর ডিজাস্টার রিপোর্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DRIMS) জানিয়েছে, এই চারজনের মধ্যে তিনজন আসামের শিবসাগর জেলার এবং একজন চড়াইদেও জেলার বাসিন্দা।
মোট ৬৬ জন মৃতের মধ্যে ৬৫ জন সাধারণ বন্যায় এবং একজন শহুরে বন্যায় মারা গেছেন।
২৫ জুলাই পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, গোলাঘাট, চড়াইদেও, কামরূপ, হোজাই, ডিব্রুগড়, শিবসাগর, যোরহাট, শোণিতপুর, কামরূপ (মেট্রো) এবং নগাঁও—এই ১০টি জেলার প্রায় ৬.৫৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জানা যাচ্ছে, শিবসাগর জেলার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ, সেখানে ২,৯০,৭৭৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আজ যেহেতু রবিবার, ভারতে ছুটি। দিনটিতে আসামের বেশ কিছু জেলা থেকে শিবসাগরে অনেক মানুষ যাচ্ছেন সাহায্যের জন্য। দেখা গিয়েছে, জিনিসপত্র গাড়িতে প্রস্তুত হয়ে গেছে।
২৮টি রাজস্ব সার্কেলের মোট ৮১০টি গ্রাম জলের তলায় চলে গেছে, যার ফলে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৩৪,৯৭০.৮ হেক্টর জমির ফসল এখন পানির নীচে। অন্যদিকে, কামরূপ এবং কামরূপ (মেট্রো) জেলায় শহুরে বন্যার কারণে ৮৬ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আসামের শিবসাগরে দিখৌ নদী এবং নুমালিগড়ে ধানসিঁড়ি (দক্ষিণ) নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। যা আতঙ্ক বয়ে আনছে।
সংকট মোকাবিলায় সে দেশের রাজ্য প্রশাসন মোট ২৭৪টি ত্রাণ কেন্দ্র খুলেছে। এর মধ্যে ৯০টি ত্রাণ শিবির এবং ১৮৪টি বিতরণ কেন্দ্র রয়েছে।
