ঢাকা: এবার সত্যি কথা বলার জন্য না জানি আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরোধিতা শুরু হয় দেশে!
মহামান্য রাষ্ট্রপতির ওপর দোষ চাপানো হয়েছে, লেলিয়ে দেয়া হয়েছে গোয়েন্দা। বলা হয়েছে তিনি শেখ হাসিনার সাথে কথা বলেছেন।
এর আগেও সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সাথে কী অন্যায় করা হয়েছে তা তিনি নিজে ফাঁস করেছেন।
তার উপর রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা চায় জামাত, এনসিপি।
এইসব কিছু খণ্ডন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য বিষয়ে আদালতে তার (রাষ্ট্রপতির) বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না।
তিনি বলেছেন, তিনি সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন৷ এর বাইরে যদি কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকেন, সেই স্বাধীনতা তাদের আছে, দিতে পারেন। কিন্তু আমলে নেওয়ার মতো কিছু দেখি না।
রবিবার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুসারে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার, সেটা তিনি পাবেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও শেখ হাসিনার সাথে ফোনালাপের বিষয়টি তিনি জানেনই না বলে দাবি করলেন।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সদ্যবিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের ফোনালাপ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘এটা আমরা পত্রিকায় দেখেছি, আমাদের কাছে সেরকম কোনো তথ্য নেই।’
রোববার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনার সঙ্গে সাহবুদ্দিনের ফোনালাপের অভিযোগের কোনো সত্যতা গোয়েন্দা সংস্থা পেয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিলো, তার কাছে কি তথ্য-প্রমাণ আছে? তাকে জিজ্ঞেস করতে হয়। আমাদের কাছে সেরকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি। আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না। তো এটা আমার কাছে অলীক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শারীরিক কারণে পদত্যাগ করেছেন। সেটি পদত্যাগপত্রে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। সেটার বিধান আছে সংবিধানে, তিনি পদত্যাগ করতে চাইলে করতে পারেন। সাংবিধানিকভাবে মাননীয় স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করার বিধান।
স্পিকার একসেপ্ট করেছেন এবং এখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার অস্থায়ীভাবে মাননীয় স্পিকার গ্রহণ করেছেন। এগুলো সবই আইনি কথা। এখন যারা তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি—রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে।
প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমলে নেয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’
