ঢাকা: নবজাতক শিশু মারা যাক, গর্ভবতী মায়েরা মারা যাক কিংবা এক একটা পরিবারের স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাক তাতে এই দেশের সরকারের কিচ্ছু আসে যায় না।

আর কিচ্ছু যায় আসে না বলেই রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে দিয়েছে সরকার।

সরকার ঘোষণা করেছে আদ-দ্বীন হাসপাতাল আবারো তার কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

হাসপাতালের অবহেলায় ছয়টি নবজাতক শিশু যে মারা গেলো, মায়ের বুক খালি হলো এর কি মূল্য আছে এই দেশে?

অন্য কোন দেশ হলে এই হাসপাতালের লাইসেন্স ফেরত পাওয়ার কোন সুযোগ থাকত না।

কিন্তু এটা তো বাংলাদেশ! তাই না?

জনগণ আগেও বলেছে এখনো বলছে, আদ-দ্বীন হাসপাতালের ক্ষেত্রে যা হয়েছে, তা আসলে গুরু শাস্তির বদলে লঘু শাস্তি, যা বাংলাদেশের অপ্রিয় বাস্তবতায় সঠিক।

বলা হয়েছে,‌নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কিসের আর শর্ত? টাকা দিলে কোনো শর্ত মানার প্রয়োজন নেই।

রোববার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২ শাখা থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, গত ১৯ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় হাসপাতালটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণের ভিত্তিতে লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে হাসপাতালটির কার্যক্রম পুনর্বহাল করা হয়েছে।

হাসপাতাল পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনে ৩টি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে— ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে এবং লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া নির্ধারিত শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে সরকার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রজ্ঞাপনে সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা জারি করেছিল। তবে পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে লাইসেন্স পুনর্বহাল করল কর্তৃপক্ষ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *