Oplus_131072

সিলেট: ১২০০ টি ফলন্ত কমলাগাছ হত্যা— আইনের ভিতরে সরকারি গুণ্ডামি ও চাঁদাবাজির নির্মম ইতিহাস রচনা করলো বাংলাদেশ বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া বললেন, তারা নাকি সরকারি জমি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে!

আইন অনুযায়ীই নাকি সব করছে।বাংলাদেশে কি এমন নোংরা আইন আছে যেখানে উচ্ছেদের নামে ১২০০ ফলন্ত কমলা গাছ কেটে উচ্ছেদ অভিযান করতে হবে?

গাছে গাছে ঝুলে থাকা সোনালি কমলা আর মাল্টা বিক্রি করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল একটি পরিবার।

আট বছরের শ্রম, পরিচর্যা, বিনিয়োগ আর ঋণের বোঝা পেরিয়ে যখন ফলনের অপেক্ষায় দিন গুণছিলেন তাঁরা, ঠিক তখনই বন বিভাগের করাত নেমে এলো সেই স্বপ্নের বাগানে।

ফলন্ত গাছ কাটা যায়? গর্ভবতী মায়ের সমান তো! দেশটা কি সবকিছু ভুলে গিয়েছে?

মুহূর্তেই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা একটি বাগান। এখন সেখানে ফলের গাছের বদলে পড়ে আছে কাটা গাছের স্তূপ। বাগানকে ঘিরে পরিবারের যে ভবিষ্যৎ দাঁড়িয়ে ছিল, তা যেন এক নিমিষেই ভেঙে পড়েছে।

এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর বন বিটের কালিঞ্জি এলাকায়।

প্রায় আট বছর আগে পাহাড়ি এলাকায় কমলা ও মাল্টার চারা রোপণ শুরু করেন সালমা বেগম এবং তাঁর স্বামী আলিম উল্লাহ।

ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে স্বপ্নের ফলের বাগান। বছরের পর বছর শ্রম দিয়ে, ধৈর্য, যত্ন দিয়ে অর্থ বিনিয়োগের পর চলতি মৌসুমেই প্রথম বড় পরিসরে ফলন পাওয়ার আশা করেছিলেন তারা।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আর মাত্র তিন মাস পর বাগান থেকে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করা সম্ভব হতো। বাগানের গাছগুলোতে হাজার হাজার ফল ধরেছিল। কিন্তু ফল পাকার আগেই উচ্ছেদ অভিযানের নামে কেটে ফেলা হয় প্রায় ১২০০টি গাছ।

বাগানের মালিক আলিম উল্লাহর অভিযোগ, বন বিভাগের লোকজনকে চাঁদা না দেওয়ায় তার বাগানটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকের স্ত্রী বললেন, “একেকজন বিসিএস ক্যাডার! প্রধানমন্ত্রী আপনি গাছ লাগাবেন, পরিবেশ বাঁচাবেন! আমাদের পেটে লাথি দিয়া”?

অভিযোগ রয়েছে, ​১০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল, দেয়নি কৃষক। ব্যস, এটুকুই ছিল অপরাধ।

আর সেই অপরাধের শাস্তি দিতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা নিমেষেই কেটে ছাই করে দিলো ১২০০টি ফলন্ত কমলাগাছ।

উচ্ছেদের হাজারটা মানবতাবাদী ও নিয়মমাফিক উপায় ছিল, কিন্তু তা না করে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার আর চাঁদাবাজির নজির দেখালো।

এর বিচার কে করবে? এই দেশে কি এটার বিচার হবে কোনোদিন? কৃষক এখন ২৫ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে তিলে তিলে ধ্বংস হয়ে যাবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *