ঢাকা: ঐ যে কথায় বলে না কৈ মাছের তেল দিয়েই কৈ মাছ ভাজা! এটাই হতে চলেছে শেষ পর্যন্ত।

মশা দিয়েই মশা রোধ কর্মসূচী শুরু হচ্ছে। না না, বাংলাদেশে নয়। এটি শুরু হচ্ছে ওয়াশিংটনে।

সেখানে ছাড়া হচ্ছে ৬ লাখ বন্ধ্যা মশা। ডেঙ্গু, জিকা, চিকুনগুনিয়া ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়ানো মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ছাড়া হচ্ছে প্রায় ৬ লাখ বন্ধ্যা পুরুষ মশা।

মশার দাপট কমানোর জন্য অভিনব এই জৈবিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভাবা যায়?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মেরিল্যান্ডভিত্তিক ‘বি সেফ মস্কিটো কন্ট্রোল’ নামের একটি স্বাস্থ্য সংস্থা চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমেই এই বিশেষ পুরুষ মশাগুলো প্রকৃতিতে ছেড়ে দেবে।

পুরুষ মশাগুলোকে ছাড়ার আগে বন্ধ্যা করা হয়েছে ছাড়ার আগে।

গবেষণাগারে এই পুরুষ মশাগুলোকে ‘ওলবাকিয়া’ নামক এক ধরনের প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত করা হয়েছে, যা মশার শরীরে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে এই পুরুষ মশাগুলো প্রকৃতিতে থাকা রক্তচোষা স্ত্রী মশার সাথে প্রজনন ঘটাবে।

কিন্তু প্রজনন করলেও আর মশার সৃষ্টি হবে না। যেহেতু পুরুষগুলো বন্ধ্যা।

ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে স্ত্রী মশার ডিম থেকে আর কখনোই নতুন লার্ভা বা বাচ্চার জন্ম হবে না। যেহেতু পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না, তাই এগুলো ছেড়ে দেওয়ার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মশার কামড় বা উপদ্রব ভোগ করতে হবে না।

স্বাস্থ্য ও পতঙ্গ বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো যখন স্ত্রী মশার সঙ্গে প্রজনন করে, তখন স্ত্রী মশাটিও সারা জীবনের জন্য বন্ধ্যা হয়ে যায়। যা প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে মশার বংশবৃদ্ধি কমিয়ে দেবে।

উল্লেখযোগ্য যে, বিজ্ঞানভিত্তিক এই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি প্রয়োগের উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়; এর আগে অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশেও ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়াযুক্ত মশা ব্যবহার করা হয়েছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য। এবং বিপুল সাফল্য পাওয়া গেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *