ঢাকা: ধর্ম নিয়ে হানাহানি, মারামারি কোনোকালেই শুভ কিছু বহন করে আনে না। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হিন্দুদের নির্যাতন, খুন কট্টরপন্থীদের মানসিক রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। না মারলে সুখ নাই- কথাটা বললেও ভুল হবে না।

জঙ্গী ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন দৈনন্দিন ঘটনায় পরিণত হয়েছিল।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং পার্বত্য জনজাতিদের উপর নজিরবিহীন আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে সে সময়।

তবে তারেক রহমান গদিতে বসলেও দাঙ্গা কমেনি। আমরা দেখেছি রথযাত্রায় সনাতনীদের মারার জন্য রেখে দেয়া হয়েছিলো ছাতার ভিতরে টাইম বোমা!

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বৃহত্তম সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সোমবার ঢাকায় সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করেছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ৪৪ জন হিন্দু নিহত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গড়েছে।

ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্রকুমার নাথ বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন অর্থাৎ প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা তাঁদের নজরে এসেছে। এর মধ্যে ৪০টি ঘটনায় হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৪ জন।

সংগঠনের অভিযোগ, ওই ছয় মাসে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫টি।

এবং অপহরণ, টাকা দাবি, নির্যাতনের ঘটনা ১০টি। হামলা, হত্যার হুমকি দেওয়ার ৪২টি ঘটনা ঘটেছ।

এদিকে, উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে এই সময় ৬২টি।

আর, উপাসনালয়ের জমি দখল/দখলের চেষ্টা ১৫টি, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ৪৭টি; কথিত ধর্মঅবমাননার অভিযোগে গ্রেফতার ও নির্যাতন ৯টি, জোর করে বাড়িঘর, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের ঘটনা ঘটেছে ২১টি। এবং অন্যান্য ঘটনা ৬টি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কিছু সূচকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার সংখ্যা কমলেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতা দূর হয়নি।

অনেক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

তাই সংখ্যালঘুদের জীবন, সম্পদ ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

নির্মল রোজারিও বলেন, আমরা শান্তি চাই। প্রতিনিয়ত আন্দোলন করতে আমাদের ভালো লাগে না। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে বড় কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আট দফা দাবি জানানো হয়।

এই জরুরি পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে উস্কানিমূলক ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং গুজব ছড়ানোকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ক্ষতিকর কাজ গণ্য করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।

এছাড়া জড়িত ব্যক্তিদের নির্বাচনে প্রার্থিতা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল; সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের ‘অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী’ হিসেবে বিবেচনা এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করতে হবে।

আট দফা দাবিতে রয়েছে–সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা; জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন; অর্পিত সম্পত্তি আইনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে রায় অনুযায়ী প্রকৃত মালিকদের জমি দ্রুত ফেরত দেওয়া এবং সংখ্যালঘুদের সরাসরি ভোটে সংসদে সংখ্যালঘুদের জন্য ৬০টি আসন সংরক্ষণ করা।

এছাড়াও বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন; পার্বত্য চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন এবং দুর্গাপূজায় ৩ দিন, প্রবারণা পূর্ণিমায় ১ দিন ও ইস্টার সানডেতে ১ দিন সরকারি ছুটি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

প্রসঙ্গত , সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।

উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, মিলন কান্তি দত্ত, রঞ্জন কর্মকার, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, হীরেন্দ্রনাথ সমাজদার হীরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ বসু, সাংগঠনিক সম্পাদক দীপংকর ঘোষ, পদ্মাবতী দেবী প্রমুখ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *