ঢাকা: বিউটি রাণী পাল। ২০২৬ সালে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। একটি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক!

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ আয়োজনে সিলেট জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিউটি রানী পাল।

অথচ এই দেশের লোকের (সবাই নন) তো খুঁচিয়ে নেগেটিভ জিনিস বের না করলে ভাতটাই হজম হয় না। তাই এই শিক্ষিকাকে নিয়েও শুরু হয়ে যায় ট্রোল। যদিও নেগেটিভ তিনি কিছুই করেননি।

তাঁর আপলোড করা কয়েক সেকেন্ডের একটি রিলস, যেখানে তিনি নিজের মতো করে শাড়ি পরে হাঁটছেন।

ভিডিওটিতে অশালীন কিছু ছিল না, কারও প্রতি অসম্মানও ছিল না। এটি ছিল নিছক একটি মুহূর্তকে স্মৃতিতে ধরে রাখার চেষ্টা।

তবু তাঁকে হতে হলো সাইবার বুলিংয়ের শিকার। সেটি এখন গড়িয়ে পৌঁছেছে শিক্ষা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিতে!

কারণ হিসেবে বলা হলো, “একজন শিক্ষিকা হয়ে এমন ভিডিও কেন?”

এখানে সমস্যার তো কিছু নেই।

তবে শিক্ষিকা বিউটি পালের প্রতি দেশের সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষেরা সম্মান, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

শ্রেণী কক্ষে তাঁর পাঠদান পদ্ধতি দেখে মনে হয়েছে প্রাইমারি লেভেলের একজন শিক্ষিকার তো এমনই হওয়া উচিৎ!! শিশুরা তো আনন্দই ভালোবাসে।

একটা বাচ্চার জন্য পড়াশুনাকে কতটা মজার করা যায়, নাচ গান কবিতার মাধ্যমে তিনি সেটার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করে যাচ্ছেন!

অবশ্য মৌলবাদীদের এগুলো ভালো লাগবে না। তাঁদের কাছে ভালো জিনিস হচ্ছে মাদ্রাসার নির্যাতন, ধর্ষণ।

তবে শিক্ষিকা বিউটি পালের প্রতি দেশের সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষেরা সম্মান, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

শ্রেণী কক্ষে তাঁর পাঠদান পদ্ধতি দেখে মনে হয়েছে প্রাইমারি লেভেলের একজন শিক্ষিকার তো এমনই হওয়া উচিৎ!! শিশুরা তো আনন্দই ভালোবাসে।

একটা বাচ্চার জন্য পড়াশুনাকে কতটা মজার করা যায়, নাচ গান কবিতার মাধ্যমে তিনি সেটার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করে যাচ্ছেন!

অবশ্য মৌলবাদীদের এগুলো ভালো লাগবে না। তাঁদের কাছে ভালো জিনিস হচ্ছে মাদ্রাসার নির্যাতন, ধর্ষণ।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালকে ট্রোল ও সমালোচনার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই শিক্ষিকা।

জিডির পর সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিগুলো শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘গত শুক্রবার ওই শিক্ষিকা থানায় জিডি করেছেন। কয়েকটি ফেসবুক আইডির (পেজ) বিরুদ্ধে ওই জিডি করা হয়েছে—যে আইডিগুলো থেকে তাকে নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। আমরা বর্তমানে ওই আইডিগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। শিক্ষিকা যদি বিভ্রান্ত বা বিব্রত বোধ করেন, অথবা যদি মনে করেন তার মানহানি হয়েছে, তবে বিষয়টি সেভাবেই দেখা হবে।’

‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে শিক্ষিকার একটি হেঁটে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে দেন আসিফ ইকবাল ইরন নামে এক প্রবাসী তরুণ।

ওই তরুণের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও সামাজিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষিকা বিউটি পাল।

ওই পেজটিতে ‘ফেঞ্চুগঞ্জে স্কুল প্রাঙ্গণেই প্রধান শিক্ষিকার টিকটক নাচ, অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ’ শিরোনামে একটি পোস্ট করা হয়।

সেখানে দাবি করা হয়, শিক্ষিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি’ করেছেন-যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কটূ মন্তব্য ও ট্রল শুরু হয়।

এ ঘটনায় প্রবাসী ওই তরুণসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানা-পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছেন শিক্ষিকা বিউটি পাল। তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

শিক্ষিকার পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের নারীরা।

প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল
সমালোচনার জবাবে শিক্ষিকা বিউটি পাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসলে তারা কী চাচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না। সবাই সবার নিজের অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করছে। এরপরও নেতিবাচক জিনিস ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের যদি মনে হয় না ভুল হয়েছে বা ভুল স্বীকার না করে কিংবা সংবাদ মাধ্যমে যদি ভুল স্বীকার না করে তাহলে আমি সাইবার আইনে মামলা করতে বাধ্য হবো।’

রবিবার (২৬ জুলাই) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সোশ্যাল মিডিয়াও নেই। তবে কয়েকজন আমাকে বলেছেন, একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটিতে কোনও অশ্লীলতা নেই। এটি কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *