ঢাকা: মেয়েটির নাম অনামিকা আক্তার জুঁই। বয়স মাত্র ১৩ বছর। এই শিশু বয়সেই সে আরো একটি শিশুর মা! ভাবতে অবাক লাগলেও ঘটনাগুলো ঘটছে প্রচুর।

আর মা তো মা-ই হয়। ১৩ বছরের মা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তার সন্তানটিকে নিজের কোলে ফিরে পেয়েছে। অনামিকার সন্তানের বয়স ৭ মাস।

মাত্র ১১ বছর বয়সে ফেসবুকে পরিচয় হয় তার চেয়ে দ্বিগুণ বয়সী এক যুবকের সাথে। যুবকের বয়স ২২। আর বাস্তব কথা হচ্ছে, আমাদের দেশের ৮০ বছরের বৃদ্ধরাও (যারা বিয়ে করে) ১৮ বছরের মেয়ে খোঁজে! এটি নির্মম বাস্তবতা সমাজের।

ফেসবুকের সূত্র ধরে ২২ বছর বয়সী সাকিব মিয়াকে বিয়ে করে জুঁই। এক বছরের মাথায় তাদের সন্তানের জন্ম হয়।

কিন্তু সন্তানটি জন্মের পরপরই স্বামী ও শাশুড়ি শিশুটিকে রেখে জুঁইকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

মায়ের তো বয়সে পায় না, তিনি মা এটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।

নিজের সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য এই কিশোরী মা আদালতের দ্বারস্থ হন। শেষ পর্যন্ত আইনের সহায়তায় তিনি তার সাত মাসের সন্তানকে ফিরে পান।

মাত্র ১১ বছর বয়সে বিয়ে, অল্প বয়সে মাতৃত্ব, সংসার থেকে বিতাড়িত হওয়া সব মিলিয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে এই ছোট্ট মেয়েটিকে।

যে বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, সেই বয়সেই তাকে লড়তে হয়েছে সংসার, মাতৃত্ব আর আদালতের লড়াই।

মায়ের সংগ্রাম মা-ই বোঝে! সেটা শ্বশুরবাড়ির আজব প্রাণীরা বুঝবে না।

জানা গেছে, অনামিকা জুঁইয়ের মা সৌদি আরবে চাকরি করেন এবং বাবা অটোরিকশা চালক।

অনামিকার সন্তান যেন মায়ের কাছে ফিরতে না পারে, সে জন্য শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আদালতে গার্ডিয়ানশিপ মামলাও করা হয়। এরপর উপায় না দেখে জুঁই আইনি সহায়তার জন্য লিগ্যাল এইডের দ্বারস্থ হয়।

ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার বিষয়টি জানার পর উদ্যোগ নেন। পরে লিগ্যাল এইড ও চকবাজার থানা পুলিশের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ৭ মাস বয়সী শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন। দীর্ঘ আড়াই মাস পর সন্তানকে ফিরে পায় মা অনামিকা জুঁই।

এই ঘটনা আবারও বাল্যবিয়ে, সামাজিক নিরাপত্তা ও শিশু অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আইন অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে ও মাতৃত্ব কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আমরা দেখলাম অনামিকার মাতৃত্ব জয়ী হয়েছে, কিন্তু হেরে গিয়েছে অনামিকার স্বপ্ন, এই সমাজ।

একটি শিশু যখন মা হয়, তখন শুধু একটি পরিবার নয়—হেরে যায় পুরো সমাজ।

একটি শিশুর ডিজিটাল পৃথিবীতে অবাধ প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছিল কে? তার অনলাইন জীবন নিরাপদ কি না, সে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, কী দেখছে, কী শিখছে—এসব দেখার দায়িত্ব কি শুধুই শিশুর?

প্রযুক্তি নিজে কখনো শত্রু নয়। কিন্তু তদারকিহীন প্রযুক্তি তো অভিশাপ হবেই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *