ঢাকা: একজন নয়, এ সফলতা সমস্ত স্বাধীনতাকামী নারীর। এ সফলতা মানুষের সফলতা। সত্যের পথে জয় আসেই, একটু আগে আর পরে।
ভারতের কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন। নিজের জন্মভূমিতে ফেরার কোনো অনুমতি তাঁর নেই, তবে পশ্চিমবঙ্গকে ভেবেছেন নিজের দ্বিতীয় জন্মভূমি। সেখানেই ফিরছেন।
লেখক তসলিমা নাসরিনের বোন রোকসানা ইয়াসমিন বলেছেন, “দুর্গা যায় মায়ের বাড়ি”!
আসলেই তাই হয়তো! বাংলা ভাষার লেখক যদি বাংলাতেই যেতে না পারেন, সেটা কি একজন লেখকের প্রতি যোগ্য সম্মান দেয়া হয়?
তসলিমা তাঁর প্রিয় শহরে যাচ্ছেন।পরিবর্তনের বাংলা তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
লেখকের নাম, ছবি-সহ শহর কলকাতার অনুষ্ঠানের একাধিক রঙিন হোর্ডিং চোখে পড়ছে। কলকাতায় না থেকেও সেই হোর্ডিং নজরে এসেছে লেখিকার। তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন তসলিমা নাসরিন?
বাকস্বাধীনতার জয়…লিখলেন তসলিমা।
লেখকের কথায়, ”কলকাতাতে আজ থেকে ১২ বছর আগে মেগাসিরিয়াল দুঃসহবাসের গল্প লিখেছিলাম বলে দুঃসহবাসের সব হোর্ডিং খুলে নেওয়া হয়েছিল, দুঃসহবাসের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আজকের এই নতুন হোর্ডিং খুলে নেওয়া হচ্ছে না। বাকস্বাধীনতার জয় এখানেই।”
সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন আজ, ৩১ জুলাই রাতে কলকাতায় পৌঁছবেন বলে জানতে পারা গিয়েছে।
যাত্রার আগে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, লাল ব্লাউজ পরেছেন তিনি। চোখে সানগ্লাস। পাশে তাঁর গাড়ি। সনাতনীরা মন্দিরে যাওয়ার সময় যে শাড়ি পরেন, তসলিমাও সেই একই শাড়ি পরেছেন। হয়তো কলকাতা তাঁর কাছে মন্দিরের মতোই পবিত্র।
ছবিটি দিয়ে ক্যাপশনে লিখেছেন, “আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম”।

“আজি এ প্রভাতে” শব্দবন্ধ হয়তো তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতার সাথে মিলিয়েই বলেছেন।
১ অগাস্ট রবীন্দ্র সদনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সঙ্গে আরও কিছু সূচি।
আয়োজকদের দাবি, ”অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।” এই অনুষ্ঠানের আয়োজক সেক্যুলার মিশন ও এইচআরবিএফএফ।
উদ্যোক্তাদের দাবি, তসলিমা নাসরিন কেন ভারতে প্রবেশ করতে পারছেন না, সেই প্রশ্ন প্রথম রাজ্যসভায় তুলেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।
সেই সময় তসলিমার সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছিল।
২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তসলিমা নাসরিন। রাতারাতি তাঁকে শহর ছাড়তে হয়।
ওই বছরেরই নভেম্বর মাসে তাঁর একটি বইকে ঘিরে শহরে বিক্ষোভ ও অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে তৎকালীন সরকার তাঁকে ভারতের এই রাজ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিবর্তনের বাংলাতে ফের ফিরছেন তসলিমা। তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত তিলোত্তমা।
আরো একটি সংবাদ পাওয়া গিয়েছে, আবার বড় পর্দায় মুক্তি পাবে তসলিমার জীবন নিয়ে গড়ে ওঠার ছবি ‘নির্বাসিত’।
আজ, ৩১ জুলাই মুক্তির আলো দেখতে চলেছে ছবিটি।
নির্বাসিত ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি অভিনয় করেছিলেন তসলিমা নাসরিনের চরিত্রে।
কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত নির্বাসিত মুক্তি পাওয়ার প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, এই ছবিটি তৈরি হয়েছিল তসলিমা নাসরিনের বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং কলকাতা থেকে চলে যাওয়া এই দুই নির্বাচনের ঘটনাকে নিয়ে।
এক সাক্ষাৎকারে চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘এই সিনেমাটি দেখলে মানুষ বুঝবেন যে তসলিমা নাসরিন ঠিক কোন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন। উনি চাইলে ফ্রান্সের নাগরিকত্বে থাকতে পারতেন অথবা অন্য কোনও দেশে চলে যেতে পারতেন কিন্তু সেটা করেননি। কিন্তু উনি ভারত তথা দিল্লিকে বেছে নিয়েছিলেন। উনি চিরকাল বাংলার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করতেন।’
চূর্ণী বলেন, ‘এই জয়, তসলিমা দিদির জয়। উনি কলকাতায় বসে এই ছবি দেখবেন এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।’
